ভারতের সেফ হোমে থাকা ১৮ নারী ও শিশু বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরেছেন

হোম » জাতীয় » ভারতের সেফ হোমে থাকা ১৮ নারী ও শিশু বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরেছেন
বুধবার ● ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

ভারতের সেফ হোমে থাকা ১৮ নারী ও শিশু বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরেছেন

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বেনাপোল (যশোর)

 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সেফ হোমে থাকা ১৮ বাংলাদেশি নারী ও শিশু বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরেছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পেট্রাপোল-বেনাপোল স্থলবন্দরের শূন্যরেখায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়।

 

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, দেশে ফেরা ১৮ জনের মধ্যে ১০ জন মেয়ে ও ৮ জন ছেলে। জাতীয়তা যাচাই করে তাদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত হওয়ার পর প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

নথি অনুযায়ী, প্রথমে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সেফ হোমে থাকা ১৯ বাংলাদেশি নারী ও শিশুকে দেশে ফেরানোর কথা ছিল। তবে পরিবারের অনুরোধ এবং শুভ মজুমদার ওরফে শোভো মজুমদারের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-সংক্রান্ত আবেদনের কারণে তাকে এ দফায় প্রত্যাবাসন করা হয়নি। ফলে ১৮ জনকে দেশে ফেরানো হয়।

 

বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ও কলকাতার সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের স্টেট টাস্কফোর্স ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় পেট্রাপোল ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট থেকে তাদের প্রত্যাবাসনের তারিখ ও সময় নির্ধারণ করে। পরে ৯ সেপ্টেম্বর কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ১৮ জনের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানায়। ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

 

নথিতে থাকা ট্রাভেল পারমিট অনুযায়ী, প্রত্যাবাসিতদের জন্য গত ৩১ আগস্ট ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করা হয়। কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কনস্যুলার শাখা থেকে এসব ট্রাভেল পারমিট দেওয়া হয়।

 

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, দেশে ফেরত আসা নারী ও শিশুদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট পোর্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।

 

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি ও রাইটস যশোরের প্রতিনিধিরা তাদের গ্রহণ করবেন।

 

বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি রেখা বিশ্বাস জানান, ভালো কাজ ও জীবিকার আশায় দালালের প্রলোভনে পড়ে বিভিন্ন সময়ে তারা অবৈধপথে ভারতে পাচারের শিকার হন। সেখানে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর স্থানীয় আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাভোগ করতে হয়। সাজা শেষে তাদের কলকাতার বিভিন্ন সেল্টার হোমে রাখা হয়। পরে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের দেশে ফেরানো হয়।

 

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের স্বেচ্ছাসেবক শফিকুল ইসলাম বলেন, ফেরত আসা নাগরিকদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। স্বজনরা পৌঁছালে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর আগে পর্যন্ত তারা শেল্টার হোমে নিরাপদ হেফাজতে থাকবেন।

বাংলাদেশ সময়: ২১:৪৬:৫১ ● ১১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ