কুয়াকাটায় ৮ কেজির দাতিনা মাছ বিক্রি ৪০ হাজার টাকায়

হোম » জেলে-মৎস্য » কুয়াকাটায় ৮ কেজির দাতিনা মাছ বিক্রি ৪০ হাজার টাকায়
মঙ্গলবার ● ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

কুয়াকাটায় ৮ কেজির দাতিনা মাছ বিক্রি ৪০ হাজার টাকায়

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

 

বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়া ৮ কেজি ওজনের একটি বিরল প্রজাতির কালো দাতিনা মাছ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। পটুয়াখালীর আলীপুর মৎস্য বন্দরে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উন্মুক্ত নিলামে মাছটি প্রতি কেজি ৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়।

 

জানা গেছে, এফবি মিম নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেদের জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে সেটি আলীপুর বন্দরের মেসার্স সাগর ফিস আড়তে নিয়ে আসা হলে খোলা বাজারে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। বিরল এ মাছটি দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে আড়তে।

 

নিলামের মাধ্যমে মাছটি কিনে নেন ‘ফ্রেশ ফিস কুয়াকাটা’র স্বত্বাধিকারী পি এম মুসা। তিনি জানান, মাছটি রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হবে। এর আগে তিনি সাড়ে ৪ কেজি ওজনের একটি কালো পোয়া মাছ ৭২ হাজার টাকায় কিনেছিলেন।

 

এফবি মিম ট্রলারের জেলে সিদ্দিক বলেন, ছোট ঝাটকা ইলিশের সঙ্গে জালে দাতিনা মাছটি ধরা পড়েছে। মাছটি ভালো দামে বিক্রি হওয়ায় আমরা খুশি। এ ধরনের মাছ জালে পেলে জেলেরা আর্থিকভাবে লাভবান হন।

 

স্থানীয় জেলেদের কাছে মাছটি দাতিনা ও ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ নামেও পরিচিত। তবে পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এটি কালো পোয়া মাছ হিসেবে পরিচিত, যা স্থানীয়ভাবে দাতিনা নামে ডাকা হয়।

 

সিফাত ফিসের আড়তদার মীর মিজানুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এ মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে মাছটির বায়ুথলির উচ্চমূল্যের কারণে এটি অনেক দামে বিক্রি হয়। মাঝে মাঝে কয়েক লাখ টাকাতেও এ ধরনের মাছ বিক্রি হয়েছে। তবে মঙ্গলবার ধরা পড়া মাছটি তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হয়েছে।

 

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার বলেন, কালো দাতিনা মাছের বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাকান্থোপ্যাগ্রাস বার্দা। এ প্রজাতির মাছ সর্বোচ্চ প্রায় ৯০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হওয়ার তথ্য রয়েছে। তবে উপকূলীয় অঞ্চলে সাধারণত তুলনামূলক ছোট আকারের মাছ বেশি পাওয়া যায়।

 

তিনি বলেন, ছোট কাঁকড়া, চিংড়ি, মাছ, শামুক-ঝিনুক ও সমুদ্রের তলদেশে থাকা বিভিন্ন ধরনের কৃমি এ মাছের প্রধান খাদ্য। শক্তিশালী চোয়ালের কারণে শক্ত খোলসযুক্ত প্রাণীও সহজে খেতে পারে।

 

ড. রাজীব সরকার আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও উপকূলীয় পরিবেশ দূষণের কারণে এ মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হুমকির মুখে পড়ছে। নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এ প্রজাতির মাছের কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ জরুরি।

 

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, স্থানীয়ভাবে দাতিনা নামে পরিচিত এসব কালো পোয়া মাছের আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা রয়েছে। মাছের বায়ুথলি বিভিন্ন শিল্পপণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হওয়ায় এর মূল্য বেশি। সব সময় এ মাছ পাওয়া যায় না। সাম্প্রতিক ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সুফল হিসেবে বর্তমানে জেলেদের জালে তুলনামূলক বেশি মাছ ধরা পড়ছে, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৪:২৯:৪০ ● ২৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ