
সাইমন টিসডল
পৃথিবীর দিকে আজ একটু গভীরভাবে তাকালেই আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। চারদিকে যুদ্ধের আগুন, ক্ষমতার উন্মত্ত প্রতিযোগিতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জলবায়ু বিপর্যয়, গণতন্ত্রের পশ্চাদপসরণ এবং মানুষের প্রতি মানুষের নিষ্ঠুরতার এমন বিস্তার দেখা যাচ্ছে, যেন সভ্যতা তার অর্জিত পথ থেকে ধীরে ধীরে উল্টো দিকে হাঁটছে।
একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিশ্বায়ন, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে যে আশাবাদের কথা বলা হয়েছিল, আজ তার বড় অংশই প্রশ্নের মুখে। পৃথিবী প্রযুক্তিতে এগিয়েছে, সম্পদ বেড়েছে, যোগাযোগের দূরত্ব কমেছে; কিন্তু মানুষের নিরাপত্তা কি বেড়েছে? রাষ্ট্রগুলো কি আরও দায়িত্বশীল হয়েছে? যুদ্ধ কি কমেছে? বৈষম্য কি কমেছে?
উত্তরগুলো ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে।
বিশ্ব এখন একই সঙ্গে কয়েকটি সংকটের মুখোমুখি। কোথাও চলছে যুদ্ধ, কোথাও রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, কোথাও খাদ্যসংকট, কোথাও রাষ্ট্রীয় ঋণের পাহাড়, কোথাও জলবায়ুজনিত দুর্যোগ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশকে ঘিরে নতুন ধরনের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি। সব মিলিয়ে মানবসভ্যতা এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে একটি সংকট অন্য সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, পৃথিবীর বড় বড় সংঘাত এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
ইউক্রেনের যুদ্ধ শুধু ইউক্রেনের ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা নয়। সুদান, মিয়ানমার কিংবা আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের মানবিক বিপর্যয়ও কেবল স্থানীয় সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অস্ত্র, জ্বালানি, খাদ্য, শরণার্থী, বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির মাধ্যমে একটি অঞ্চলের অস্থিরতা দ্রুত অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।
পৃথিবী যেন অসংখ্য আগুনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
যুদ্ধের মানচিত্র দীর্ঘ হচ্ছে
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বব্যবস্থা নির্মাণের সময় একটি মৌলিক প্রত্যাশা ছিল - রাষ্ট্রগুলো অন্তত এতটুকু শিক্ষা নেবে যে যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে মানবজাতিকে দূরে রাখতে হবে। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক আইন, কূটনৈতিক জোট এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতার মূল দর্শনও ছিল সেটিই।
কিন্তু আজ সেই কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে।
আন্তর্জাতিক আইন অনেক ক্ষেত্রে শক্তিশালী রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী ব্যবহৃত হচ্ছে। কোথাও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠছে, কোথাও আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, কোথাও আবার জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার সক্ষমতাই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকটও বাড়ছে।
একদিকে পশ্চিমা সামরিক জোটগুলো নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবছে, অন্যদিকে চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তি নিজেদের প্রভাব বাড়াতে সক্রিয়। এশিয়া থেকে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রশান্ত মহাসাগর - প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক অঞ্চলে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
এ প্রতিযোগিতা শুধু অর্থনৈতিক নয়।
এটি সামরিক।
এটি প্রযুক্তিগত।
এটি রাজনৈতিক।
এবং সবচেয়ে ভয়ংকরভাবে, এটি পারমাণবিক সক্ষমতার প্রতিযোগিতার সঙ্গেও যুক্ত।
যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দেয় সাধারণ মানুষ
রাষ্ট্রপ্রধানেরা যুদ্ধ ঘোষণা করেন, জেনারেলরা যুদ্ধ পরিচালনা করেন, অস্ত্র ব্যবসায়ীরা মুনাফা করেন; কিন্তু যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ মূল্য দেয় সাধারণ মানুষ।
একটি বোমা যখন কোনো শহরের ওপর পড়ে, তখন সেটি রাজনৈতিক মতাদর্শ দেখে মানুষ হত্যা করে না।
শিশু, নারী, বৃদ্ধ, রোগী - সবাই যুদ্ধের শিকার হয়।
একটি যুদ্ধ শেষ হওয়ার বহু বছর পরও তার ক্ষত থেকে যায়। ধ্বংস হয়ে যায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামো। জন্ম নেয় শরণার্থী প্রজন্ম। যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের বড় একটি অংশ কখনো স্বাভাবিক শৈশব ফিরে পায় না।
আজ পৃথিবীতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, সংঘাত এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় মিলিয়ে মানুষের নিজ জন্মভূমি ছেড়ে পালানোর প্রবণতা বাড়ছে।
মানুষ এখন শুধু যুদ্ধ থেকে পালাচ্ছে না।
পালাচ্ছে ক্ষুধা থেকে।
খরা থেকে।
বন্যা থেকে।
রাজনৈতিক নিপীড়ন থেকে।
ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা থেকে।
অর্থনীতি: সমৃদ্ধির আড়ালে গভীর দুর্বলতা
বিশ্ব অর্থনীতির বাহ্যিক চিত্র যতটা শক্তিশালী মনে হয়, ভেতরের বাস্তবতা ততটা স্বস্তিদায়ক নয়।
বিশাল রাষ্ট্রীয় ঋণ, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, সম্পদের কেন্দ্রীভবন এবং প্রযুক্তিখাতে অতিমাত্রায় বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কয়েকটি বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশ্ব পুঁজিবাজারের অতিরিক্ত নির্ভরতা নতুন ধরনের ঝুঁকির জন্ম দিয়েছে।
অর্থনীতির একটি পুরোনো সত্য হলো - বাজারে দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের পর হঠাৎ ভয় তৈরি হলে পতন দ্রুত হয়।
২০০৮ সালের আর্থিক সংকট বিশ্বকে সেই শিক্ষা দিয়েছিল।
প্রশ্ন হলো, বিশ্ব কি সেই শিক্ষা সত্যিই গ্রহণ করেছে?
আজও অনেক দেশের অর্থনীতি ঋণের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। উন্নয়নশীল দেশগুলো একদিকে বৈদেশিক ঋণের চাপ সামলাচ্ছে, অন্যদিকে উন্নত দেশগুলোও নিজেদের বিশাল বাজেট ঘাটতি ও ঋণ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
সবচেয়ে ভয়াবহ বৈষম্যটি অবশ্য অন্য জায়গায়।
বিশ্বে সম্পদ বাড়ছে, কিন্তু সেই সম্পদের বণ্টন সমানভাবে হচ্ছে না।
একদিকে বিলিয়ন ডলারের প্রযুক্তি সাম্রাজ্য, অন্যদিকে খাবারের জন্য দীর্ঘ লাইন।
একদিকে মহাকাশে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে পৃথিবীতেই কোটি মানুষের নিরাপদ পানির সংকট।
সভ্যতার এই বৈপরীত্যকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
জলবায়ু আর ভবিষ্যতের সমস্যা নয়
একসময় জলবায়ু পরিবর্তনকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সংকট হিসেবে আলোচনা করা হতো। এখন আর সেটি বলার সুযোগ নেই।
জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের বর্তমানের বাস্তবতা।
অস্বাভাবিক বৃষ্টি, ভয়াবহ বন্যা, দীর্ঘ খরা, তীব্র তাপপ্রবাহ, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি - পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষ এখন এর সরাসরি প্রভাব অনুভব করছে।
সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য হলো, জলবায়ু সংকটের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী দেশগুলোই অনেক ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য এটি শুধু পরিবেশের প্রশ্ন নয়; এটি অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, অভিবাসন এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন।
কিন্তু পৃথিবীর বড় শক্তিগুলো যখন সামরিক প্রতিযোগিতা ও ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ব্যস্ত, তখন জলবায়ু সংকট মোকাবিলার প্রয়োজনীয় ঐক্য তৈরি হচ্ছে না।
মানুষ যেন আগুন লাগা ঘরের ভেতরে বসে আসবাবপত্র নিয়ে ঝগড়া করছে।
গণতন্ত্রের ওপর নতুন চাপ
বিশ্বের আরেকটি বড় উদ্বেগ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের দুর্বলতা।
বিভিন্ন দেশে নির্বাচনী রাজনীতির পাশাপাশি বাড়ছে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা। ভিন্নমতকে রাষ্ট্রবিরোধিতা হিসেবে দেখার প্রবণতা, গণমাধ্যমের ওপর চাপ, বিচারব্যবস্থার রাজনৈতিক ব্যবহার এবং সামাজিক বিভাজন গণতন্ত্রকে দুর্বল করছে।
সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, কর্তৃত্ববাদ এখন আর সব সময় সামরিক পোশাক পরে আসে না।
অনেক সময় এটি নির্বাচনের মধ্য দিয়েই আসে।
জনগণের ভয়, ক্ষোভ, অর্থনৈতিক হতাশা ও পরিচয়গত বিভাজনকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় পৌঁছে তারপর ধীরে ধীরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।
গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার প্রতিষ্ঠান।
আর সবচেয়ে বড় দুর্বলতাও প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতর থেকেই তৈরি হয়।
যখন আদালত, সংসদ, গণমাধ্যম ও প্রশাসনের স্বাধীনতা ক্ষয়ে যায়, তখন গণতন্ত্রের বাহ্যিক কাঠামো থাকলেও তার প্রাণশক্তি কমে যায়।
পারমাণবিক পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভয়
মানবসভ্যতা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে পৃথিবী ধ্বংস করার মতো অস্ত্র মানুষের হাতে রয়েছে।
এটি শুধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাফল্যের গল্প নয়; এটি মানুষের আত্মবিনাশের সক্ষমতার গল্পও।
পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রগুলো তাদের সামরিক সক্ষমতা আধুনিকায়ন করছে। নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র, কৌশলগত অস্ত্র এবং মহাকাশভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে।
সমস্যা হলো, যুদ্ধের সময় ভুল সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
একটি ভুল হিসাব।
একটি ভুল গোয়েন্দা তথ্য।
একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি।
অথবা কোনো দায়িত্বজ্ঞানহীন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
এসবের যেকোনো একটি কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যার পরিণতি শুধু একটি দেশের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য ভয়াবহ হতে পারে।
তাহলে কি আশা নেই?
এত অন্ধকারের মধ্যেও আশার জায়গা আছে।
কারণ পৃথিবীর ইতিহাস শুধু যুদ্ধ ও স্বৈরশাসকের ইতিহাস নয়।
এটি প্রতিরোধেরও ইতিহাস।
দাসপ্রথা একসময় স্বাভাবিক ছিল। আজ তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।
নারীর ভোটাধিকার একসময় অসম্ভব মনে করা হতো। আজ সেটি অধিকারের মৌলিক প্রশ্ন।
উপনিবেশবাদ একসময় পৃথিবীর স্বাভাবিক রাজনৈতিক বাস্তবতা ছিল। মানুষের সংগ্রাম সেটি বদলেছে।
বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন, মানবাধিকারের জন্য সংগ্রাম - সবকিছুই প্রমাণ করে যে ইতিহাসের গতিপথ কোনো একক শাসক নির্ধারণ করতে পারে না।
ক্ষমতাবান মানুষ ইতিহাসের একটি সময়কে প্রভাবিত করতে পারে।
কিন্তু ইতিহাসের মালিক তারা নয়।
পৃথিবীর ভবিষ্যৎ কার হাতে?
বিশ্বের ভবিষ্যৎ কোনো একনায়ক, সামরিক জেনারেল, যুদ্ধবাজ রাজনীতিক কিংবা করপোরেট সাম্রাজ্যের হাতে এককভাবে নির্ধারিত হয় না।
পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করে সাধারণ মানুষের ওপর।
যে মানুষ যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলে।
যে মানুষ ঘৃণার বদলে সহমর্মিতা বেছে নেয়।
যে মানুষ অন্যায়ের সামনে নীরব থাকতে অস্বীকার করে।
যে মানুষ নিজের সুবিধার বাইরে অন্য মানুষের নিরাপত্তার কথাও ভাবে।
সভ্যতা টিকে আছে শুধু শক্তিশালী রাষ্ট্রের কারণে নয়। সভ্যতা টিকে আছে মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা, বিশ্বাস ও সহানুভূতির কারণে।
আজ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন নতুন কোনো অস্ত্র নয়।
নতুন কোনো সামরিক জোটও নয়।
সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ।
পৃথিবী নিঃসন্দেহে কঠিন সময় পার করছে। যুদ্ধের আগুন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জলবায়ু বিপর্যয় ও রাজনৈতিক বিভাজন আমাদের সামনে ভয়াবহ ভবিষ্যতের আশঙ্কা তৈরি করছে।
কিন্তু আশঙ্কা আর পরিণতি এক জিনিস নয়।
মানুষ যদি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে পারে, রাষ্ট্র যদি শক্তির বদলে সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেয় এবং নাগরিকরা যদি ঘৃণা ও উগ্রতার রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে এখনো পথ পরিবর্তনের সুযোগ আছে।
সবচেয়ে বড় কথা, হতাশা কখনো সমাধান নয়।
কারণ পৃথিবীকে যারা ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি মানুষের ভয়।
আর যারা পৃথিবীকে বাঁচাতে চায়, তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি আশা।
সুতরাং অন্ধকার যত গভীরই হোক, আলো জ্বালানোর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই।
পৃথিবীর ভবিষ্যৎ কোনো ক্ষমতাবানের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি কোটি কোটি সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উত্তরাধিকার। আর সেই উত্তরাধিকার রক্ষার লড়াই শেষ পর্যন্ত মানুষকেই লড়তে হবে।