
সাগরকন্যা আইটি ডেস্ক
শিক্ষাকে ‘মেয়াদহীন পাসপোর্ট’ আখ্যা দিয়ে নতুন প্রজন্মের প্রতি কৌতূহল, সৃজনশীলতা ও অনিশ্চয়তাকে গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন টিকটকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শও জি চিউ। দ্রুত পরিবর্তনশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রযুক্তিকে মানুষের সম্ভাবনা বিকাশের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে দেখার পরামর্শ দেন তিনি।
সিঙ্গাপুরে কাটানো নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে শও জি চিউ বলেন, ছোটবেলায় নিজের পরিচিত পরিবেশের বাইরে পৃথিবীকে খুব বেশি চিনতেন না তিনি। পরে দেশের অন্য প্রান্তে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়াই তাকে পরিচিত ও আরামদায়ক গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে।
তার ভাষায়, ছোট একটি দ্বীপরাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও সিঙ্গাপুর কৌতূহল, উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতার মাধ্যমে বিশ্বে বড় প্রভাব তৈরি করেছে। এখন নতুন প্রজন্মের হাতেও নিজেদের প্রতিষ্ঠান ও ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করে বিশ্বপরিসরে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শৈশব থেকেই প্রচলিত প্রত্যাশার বাইরে কিছু করার আগ্রহ ছিল তার। আশির দশকে বাবার কেনা একটি ‘২৮৬’ ব্যক্তিগত কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘ সময় কাটাতেন তিনি। প্রোগ্রামিংয়ের বদলে তখন মূলত কম্পিউটার গেম খেললেও সেই অভিজ্ঞতাই প্রযুক্তির প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি করে দেয়।
পরবর্তীতে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। কর্মজীবনে বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাক্সে কাজ করার পর হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে এমবিএ করেন। বিশ্ববাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল ধারা বোঝার আগ্রহ থেকেই তার ক্যারিয়ারের এই পথচলা।
তিনি বলেন, নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপে বিনিয়োগ বাড়তে দেখার সময়ই প্রযুক্তির প্রতি শৈশবের আগ্রহ নতুন করে ফিরে আসে। তখন তিনি উপলব্ধি করেন, কৌতূহল কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। মানুষের ভেতরের সত্যিকারের আগ্রহ একসময় তাকে আবার নিজের আবেগ ও সম্ভাবনার জায়গায় ফিরিয়ে আনে।
ফাইন্যান্স থেকে প্রযুক্তি খাতে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রযুক্তি শুধু হার্ডওয়্যার বা কোডিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রযুক্তির প্রকৃত শক্তি হলো মানুষের সুপ্ত সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে আসা, একটি ধারণাকে কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রতিভাবান মানুষকে বৈশ্বিক পরিসরে নিজের গল্প বলার সুযোগ করে দেওয়া।
নতুন স্নাতকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম এমন এক সময়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করছে, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে পরিবর্তনের গতি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় দ্রুত। এই পরিবর্তনকে ভয় পাওয়ার পরিবর্তে নতুন প্রজন্মকে অজানাকে জানার আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
তার পরামর্শ, এমন পরিবেশে নিজেকে যুক্ত করতে হবে যেখানে নতুন কিছু শেখার সুযোগ রয়েছে। অনিশ্চয়তাকে ভয় না পেয়ে গ্রহণ করতে হবে এবং সহপাঠী ও সহকর্মীদের নিয়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। কারণ, কঠিন সময়ে একটি শক্তিশালী কমিউনিটিই সবচেয়ে বড় সহায় হয়ে উঠতে পারে।
বক্তব্যের শেষ অংশে তিনি নতুন প্রজন্মকে শিক্ষার পাশাপাশি আজীবন কৌতূহলী থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, শিক্ষা মানুষকে নতুন পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিলেও কৌতূহলই নতুন বিশ্বের দরজা খুলে দেয়।
তিনি বলেন, আগামী দিনের উদ্ভাবন নির্ভর করবে সেই প্রজন্মের ওপর, যারা সৃজনশীলতা ধরে রাখতে পারবে এবং কাজের ভেতরের আনন্দ হারাবে না। ইতিবাচক পরিবর্তন ও নতুন উদ্ভাবনের যুগ গড়ে তোলার দায়িত্ব এখন তাদের হাতেই।