
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. ছিদ্দিকুর রহমান পান্নার বাসায় দিনের বেলায় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। বাসার মূল দরজার ছিটকানি কেটে ভেতরে ঢুকে একটি কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা কলেজছাত্রীকে বাইরে থেকে আটকে রেখে চোরেরা স্টিলের আলমারি ভেঙে নগদ লক্ষাধিক টাকা ও প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে বরগুনা শহরের সুলতান আলী সড়কের অনাবিল প্লাজার দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে।
অ্যাডভোকেট ছিদ্দিকুর রহমান পান্না জানান, সকাল ৯টার দিকে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে জজ কোর্টে যান। তার স্ত্রী ছোট ছেলেকে নিয়ে স্কুলে যান। এ সময় তাদের কলেজপড়ুয়া মেয়ে বাসায় ঘুমিয়ে ছিল। মেয়েকে না জাগিয়ে তার স্ত্রী বাইরে থেকে বাসায় তালা লাগিয়ে ছেলেকে নিয়ে স্কুলে যান।
এই সুযোগে চোরেরা বাসার মূল দরজার ছিটকানি কেটে ভেতরে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ। পরে ঘুমিয়ে থাকা মেয়ের কক্ষের দরজা বাইরে থেকে আটকে দিয়ে অন্য কক্ষে থাকা স্টিলের আলমারি ভেঙে নগদ লক্ষাধিক টাকা ও প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় চোরেরা। এ সময় ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্রও তছনছ করা হয়।
ছিদ্দিকুর রহমান পান্না বলেন, ‘আমি তখন কোর্টে ছিলাম। আমার স্ত্রী ছেলেকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছিল। মেয়ে বাসায় ঘুমিয়ে ছিল। ধারণা করছি, চোরেরা বাসায় ঢুকে মেয়েকে দেখে কোনো ধরনের স্প্রে করেছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ এত কিছু ঘটলেও সে কিছুই টের পায়নি।’
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তার বাসার দূরত্ব মাত্র প্রায় ৫০০ মিটার। ভবনের নিচতলায় ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথ ও দুটি আইনজীবীর চেম্বার রয়েছে। ভবনটিতে একজন কেয়ারটেকারসহ ছয়তলায় ১২টি পরিবার বসবাস করে। আশপাশে চৌরাস্তা, বাসস্ট্যান্ড ও একাধিক দোকান থাকায় এলাকাটি সব সময় ব্যস্ত থাকে। এমন জনবহুল এলাকায় দিনের বেলায় এ ধরনের চুরির ঘটনায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
আইনজীবীর মেয়ে বলেন, ‘আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। আমার ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে দেওয়া হয়েছিল, সেটিও বুঝতে পারিনি। পরে মা এসে দরজার ছিটকানি খুলে আমাকে ঘুম থেকে জাগান। অন্য ঘরে গিয়ে দেখি স্টিলের আলমারি ভাঙা এবং জিনিসপত্র এলোমেলো।’
আইনজীবীর স্ত্রী জানান, স্কুল থেকে ফিরে বাসার সামনে গিয়ে তিনি দেখতে পান দরজার তালা নেই এবং দরজা খোলা। পরে মেয়ের কক্ষের সামনে গিয়ে দেখেন, বাইরে থেকে ছিটকানি লাগানো। অন্য কক্ষে গিয়ে স্টিলের আলমারি ভাঙা ও মালামাল তছনছ অবস্থায় দেখতে পান। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরি হয়েছে।
ভবনের কেয়ারটেকার আবদুল ওহাব বলেন, ‘আমি সব সময় দরজার কাছে থাকি। তবে এত বড় ভবনে প্রতিদিন অনেক মানুষ ওঠানামা করেন। কে চোর আর কে মেহমান, সব সময় বোঝা যায় না।’
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকায় দিনের বেলায় বাসায় ঢুকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে বরগুনা আইনজীবী সমিতির সদস্যসচিব মনোয়ারা আক্তার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিকুল হকসহ অন্যান্য আইনজীবী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। বিএনপি নেতা ও আইনজীবী আবদুল ওয়াসি মতিন বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু শাহাদাৎ হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইনজীবী এখনো মামলা করেননি। মামলা হলে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।’