সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় খাল খনন শেষে সরকারি কোষাগারে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা ফেরত দিয়েছেন বরগুনার আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী। খাল খননের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনে দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছও রোপণ করা হয়েছে।
এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইউএনওসহ দেশের ৮৪ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় খাল খননের সুফল, সৌন্দর্যবর্ধন এবং উপজেলা উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী ইউএনওদের ভালো কাজের উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি নিজ নিজ উপজেলার উন্নয়নে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।
জানা গেছে, অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় আমতলী উপজেলায় দুটি খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ৮ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কুকুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কেওয়াবুনিয়া খালের ৩ কিলোমিটার খননের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা এবং হলদিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া খালের ২ কিলোমিটার খননের জন্য ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ দেয়। দুটি খাল খননে ৩৯৭ জন অতিদরিদ্র উপকারভোগী কাজ করেন।
ইউএনও মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরীর তদারকিতে খাল দুটির খননকাজ শেষ হয়। পরে খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করা হয়। খনন ও বৃক্ষরোপণ শেষে অব্যয়িত ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।
কেওয়াবুনিয়া খালপাড়ের বাসিন্দা ও উপকারভোগী এইচএম কাওসার মাদবর ও রুবেল হাওলাদার বলেন, খালটি খননের ফলে অন্তত ২০ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। শুকনো মৌসুমে পানির অভাবে রবি শস্য চাষে যে সমস্যা হতো, এখন তা অনেকটাই দূর হবে। খালের পানি ব্যবহার করে কৃষকেরা প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ফসল উৎপাদন করতে পারবেন। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে গাছ লাগানোর ফলে এলাকার সৌন্দর্যও বেড়েছে।
আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দিকনির্দেশনা ও প্রকল্পের কার্যাদেশ অনুযায়ী খননকাজ শেষ করা হয়েছে। কাজ শেষে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, খাল খনন প্রধানমন্ত্রীর একটি মহতী উদ্যোগ। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করেছি। খাল খননের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দুটি খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ শেষে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ভালো কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রী দেশের ৮৪ জন ইউএনওকে ডেকে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে উৎসাহ ও প্রশংসা করেছেন এবং উপজেলা উন্নয়নে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ফখরুদ্দিন তহসিন মৃধা ও মো. রাশিমুল হক রিমন বলেন, কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনা আমতলীতে প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করলে দেশের উন্নয়ন আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।