
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট
পূর্ব সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় গত দুই দিনে অন্তত ২১ জেলেকে অপহরণ করেছে সশস্ত্র বনদস্যুরা। মাছ ধরার সময় জেলেবহরে হামলা চালিয়ে ট্রলারে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় শরণখোলা ও মোংলা এলাকার জেলে ও মহাজনদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সর্বশেষ শনিবার দিবাগত রাতে সুন্দরবনের ভাঙ্গা, আমবাড়ীয়া, নারিকেলবাড়ীয়া ও ঝাপসি এলাকার ভদ্রা নদী থেকে ১৫ জেলেকে অপহরণ করা হয়। এর আগে পৃথক স্থান থেকে আরও ছয় জেলেকে তুলে নিয়ে যায় দস্যুরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় জানান, শনিবার রাতে সাগরসংলগ্ন ভাঙ্গা, আমবাড়ীয়া ও নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় জেলেরা মাছ ধরছিলেন। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় বনদস্যুরা জেলেবহরে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন নৌকা থেকে ১৫ জনকে তুলে একটি ট্রলারে নিয়ে যায়।
অপহৃতদের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন খুলনার আরিফ (২৫), সগীর (৩৪), মিঠু (৩০) ও ফেরদাউস (২৮); বরগুনার পাথরঘাটা ও তালতলী এলাকার ইব্রাহিম (৩৫), ইমরান (২৫), মোস্তাফিজুর (৩৫), আলামিন (২৮), হানিফ (৩৮) ও মারুফ (৪৯); এবং মোংলার উলুকাটা চিলা এলাকার মাসুদ ইজারদার (২৮) ও ইমদাদুল ইজারদার (৩০)।
ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, এসব জেলে বন বিভাগের অনুমতিপত্র নিয়ে চরপাটা, পোকা জাল ও বড়শি দিয়ে সুন্দরবনের খালে মাছ ধরছিলেন।
এদিকে মোংলার এক জেলে-মহাজন জানান, শনিবার রাতে বনদস্যু করিম-শরীফ বাহিনীর সদস্যরা ঝাপসি এলাকার ভদ্রা নদী থেকে মাসুদ ও ইমদাদুলকে অপহরণ করে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মেহেরআলী এলাকা ও শ্যালা নদীর মুখসহ পৃথক স্থান থেকেও ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র সশস্ত্র সদস্যরা কয়েকজন জেলেকে জিম্মি করে নিয়ে গেছে।
মহাজনদের ভাষ্য, যেসব জেলের নৌকায় দস্যুদের নির্ধারিত চাঁদা পরিশোধের কার্ড নেই, মূলত তাদেরই লক্ষ্য করা হচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য অনেক মহাজন প্রতি ‘গোনে’ পাঁচ হাজার টাকা করে চাঁদা দিয়ে দস্যুদের কার্ড সংগ্রহ করেন। তবে যাদের কার্ড নেই, তাদের আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ঘটনার পরপরই এসআরবি, কোস্টগার্ড ও বন প্রতিমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। অপহৃত জেলেদের দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
নতুন করে বনদস্যুদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় সুন্দরবনসংলগ্ন মৎস্যজীবীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অপহৃত জেলেদের জীবিত উদ্ধারের পাশাপাশি সুন্দরবনকে পুনরায় দস্যুমুক্ত করতে দ্রুত কঠোর যৌথ অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন শরণখোলা ও মোংলা এলাকার জেলে-মহাজনরা।