সন্তান হওয়ার জন্য তাবিজ ব্যবহার করা কি জায়েজ?

হোম » ইসলামী জীবন » সন্তান হওয়ার জন্য তাবিজ ব্যবহার করা কি জায়েজ?
শুক্রবার ● ২৪ জুলাই ২০২৬


সন্তান হওয়ার জন্য তাবিজ ব্যবহার করা কি জায়েজ?

 

সাগরকন্যা ডেস্ক

 

সন্তান হওয়া, সুস্থতা লাভসহ যেকোনো উদ্দেশ্য পূরণের জন্য জাগতিক মাধ্যম চিকিৎসা ও ওষুধপত্রের বাইরে আল্লাহর শক্তি ছাড়া অন্য কোনো অদৃশ্য বা অলৌকিক শক্তিকে ক্ষমতাবান বা সুস্থতার কারণ মনে করা, কিংবা আল্লাহর সমান শক্তিমান মনে করা শিরক। তাবিজকে সত্তাগতভাবে প্রভাব সৃষ্টিকারী হিসেবে বিশ্বাস করা এবং শিরকি শব্দ, কুফরি কালাম বা অর্থহীন লেখা-সম্বলিত তাবিজ ব্যবহার করা নাজায়েজ।

 

এ ধরনের তাবিজ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তাবিজ ঝোলাল, সে শিরক করল।’ (মুসনাদে আহমদ)

 

ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন নবী করিম (সা.) এক ব্যক্তির হাতে একটি চুড়ি দেখে বললেন, ‘এটা কী?’ তিনি বললেন, ‘এটি এক ধরনের হাড়।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘এটি খুলে ফেলো। এটি তোমার দুর্বলতাই কেবল বাড়াবে। এটি বাঁধা অবস্থায় যদি তোমার মৃত্যু হয়, তাহলে তুমি কখনো সফল হবে না।’ (ইবনে মাজাহ)

 

তবে কেউ যদি সন্তান লাভ, সুস্থতা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কোরআন-হাদিসে বর্ণিত দোয়া, আয়াত, সূরা, জিকির বা সঠিক অর্থবোধক কোনো দোয়া লিখে শরীরে ধারণ করেন, তাহলে তা অবৈধ হবে না-এমন মতও আলেমদের মধ্যে রয়েছে।

 

শিরক আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণ্য ও জঘন্যতম পাপ। কোরআনে শিরককে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জুলুম বলা হয়েছে এবং বিভিন্ন আয়াতে বারবার শিরক থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আর যে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে, সে এক মহাপাপ করে।’ (সুরা নিসা: ৪৮)

 

শিরককারীদের জন্য জান্নাত হারাম ঘোষণা করে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম।’ (সুরা মায়েদা: ৭২)

 

তাই আমাদের কাজ ও বিশ্বাসে কোনোভাবেই যেন শিরক স্থান না পায়, সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকা কর্তব্য।

বাংলাদেশ সময়: ৬:৫০:১৫ ● ১৮ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ