
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনায় একই পরিবারের তিন জমজ বোন সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে বিরল কৃতিত্বের নজির স্থাপন করেছে। কৃতী তিন শিক্ষার্থী অঙ্কিতা, অনুষ্কা ও অন্বেষা বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না হাইসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গত ১৩ জুলাই প্রকাশিত ফলাফলে তারা তিনজনই ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা জেলায় এই প্রথম একই পরিবারের তিন জমজ বোন একসঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেছে। এ সাফল্যে পরিবার, বিদ্যালয়, সহপাঠী ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
তিন বোনের মা কাজল রানী গৌরিচন্না হাইসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং বাবা চিন্ময় মালদার গৌরিচন্না নওয়াব সলিমুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ট্রেড ইন্সট্রাক্টর। তাঁদের গ্রামের বাড়ি বরগুনার দক্ষিণ মনসাতলী গ্রামে।
কাজল রানী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্তরিক পরিচর্যা, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং আমার তিন মেয়ের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এই সাফল্য এসেছে। কর্মব্যস্ততার মধ্যেও আমরা তাদের নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। একজন শিক্ষক হিসেবে আমি তাদের পড়াশোনায় কোনো ঘাটতি রাখিনি। এ অর্জনের জন্য বিদ্যালয়ের সব শিক্ষকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘একই পরিবারের তিন জমজ বোনের একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন আমাদের বিদ্যালয়ের ইতিহাসে স্মরণীয় ঘটনা। এ বছর আমাদের বিদ্যালয়ের ১২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জন বৃত্তি পেয়েছে, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াসী মতিন বলেন, ‘একই পরিবারের তিন বোনের একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন সত্যিই বিরল ঘটনা। এটি শুধু বিদ্যালয়ের নয়, পুরো এলাকার গর্ব। এমন সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষার প্রতি আরও উৎসাহিত করবে।’
এ অর্জনে স্থানীয় শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, একই পরিবারের তিন জমজ বোনের একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন দেশের শিক্ষাঙ্গনেও একটি ব্যতিক্রমী ও অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও তারা আরও বড় সাফল্য অর্জন করে বরগুনা ও দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।