
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আদালতে মামলা দায়ের করে অভিযুক্তের বিচার দাবি করেছেন। তবে অভিযুক্ত এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সাজানো মামলা বলে দাবি করেছেন।
আদালতে দায়ের করা মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাউফল উপজেলার একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘পদক্ষেপ’ থেকে ওই নারী এক লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। তিনি নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, ঋণ নেওয়ার পর থেকেই সংস্থাটির বাউফল শাখার ব্যবস্থাপক মো. আব্বাস খান বিভিন্ন অজুহাতে তার বাড়িতে যাতায়াত করতেন। স্বামী বাড়িতে না থাকলে একাধিকবার কুপ্রস্তাব দিতেন এবং রাজি না হলে কিস্তি আদায়ে হয়রানির হুমকি দিতেন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার সকাল ১১টার দিকে ওই নারী বাড়ির সামনে অবস্থানকালে আব্বাস খান ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ভুক্তভোগী নারীর দাবি, ঘটনার পর তিনি বাউফল থানায় গেলে পুলিশ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তের আচরণে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অভিযুক্ত মো. আব্বাস খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সংস্থার ঋণের টাকা পরিশোধ করতে বলায় তিনি আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে একটি সাজানো মামলা করেছেন। অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। আমি ন্যায়বিচার চাই।’
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আদালতের আদেশ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’