আমতলীতে অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে দুই শিক্ষকের স্কেল আবেদনের অভিযোগ

হোম » লিড নিউজ » আমতলীতে অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে দুই শিক্ষকের স্কেল আবেদনের অভিযোগ
সোমবার ● ১৩ জুলাই ২০২৬


 

আমতলীতে অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে দুই শিক্ষকের স্কেল আবেদনের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)

 

বরগুনার আমতলীর বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে দুই শিক্ষকের বিএড ও টাইম স্কেলের আবেদন অনলাইনে জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউনুছ হাওলাদার। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক, অফিস সহকারী ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

 

লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউনুছ হাওলাদার বলেন, জীববিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষিকা মোসা. আনিশা আক্তার বিএড স্কেল এবং আরবি বিভাগের শিক্ষক মো. অলী উল্লাহ টাইম স্কেলের জন্য আবেদন করেন। এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। পরে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি গাজী কাওসার আহম্মেদ, শিক্ষক আনিশা আক্তার, অলী উল্লাহ এবং অফিস সহকারী মো. রেজাউল করিমের যোগসাজশে ভুয়া রেজুলেশন, প্রত্যয়নপত্র ও অভিজ্ঞতা সনদ তৈরি করা হয়।

 

তিনি দাবি করেন, এসব কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে বলা হলেও তিনি অস্বীকৃতি জানান। এরপর তার স্বাক্ষর জাল করে গত জুন মাসে অনলাইনের মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে স্কেলের আবেদন জমা দেওয়া হয়। গত ১২ জুলাই বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি অভিযোগ করেন, কাগজপত্রে স্বাক্ষর না করায় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে অফিস সহকারী মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘অধ্যক্ষ ও সভাপতি কাগজপত্র গুছিয়ে আমাকে দিতে বলেছিলেন। আমি তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছি। এর বেশি কিছু জানি না।’

 

জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষিকা মোসা. আনিশা আক্তার বলেন, ‘আমি নিয়ম অনুযায়ী বিএড স্কেলের জন্য আবেদন করেছি। অধ্যক্ষ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে দিয়েছেন। আমি শুধু অনলাইনে আবেদন জমা দিয়েছি। অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করার প্রশ্নই ওঠে না।’

 

আরবি বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. অলী উল্লাহও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘টাইম স্কেলের সময় হওয়ায় আবেদন করেছি। অধ্যক্ষ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন নিয়েই কাগজপত্র অনলাইনে জমা দেওয়া হয়েছে।’

 

মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি গাজী কাওসার আহম্মেদ বলেন, ‘অধ্যক্ষ নিজের অনিয়ম আড়াল করতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। তার নিজের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া মাদ্রাসার পাঁচ লাখ টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে তাকে ওএসডি করা হয়েছে। এসব বিষয়ে কমিটি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করায় তিনি এখন পাল্টা অভিযোগ তুলছেন।’

 

এদিকে, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও কোনো তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।

বাংলাদেশ সময়: ২০:১৭:০৪ ● ১৯ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ