
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর বাউফলে বাবা-মা হারিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্য ও অবহেলার মধ্যে জীবনযাপন করা তিন প্রতিবন্ধী ভাই- নিদু, রিপন ও সাধনের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তাদের জন্য যৌথ ব্যাংক হিসাব খোলার পাশাপাশি খাদ্যসহায়তা ও প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সালেহ আহমেদের উদ্যোগে অগ্রণী ব্যাংক বাউফল শাখায় তিন ভাইয়ের নামে একটি যৌথ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ওই হিসাবের নম্বর ০২০০০২৫৮৪৫৪৮৮।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিন ভাইয়ের মানবেতর জীবনযাপনের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন আর্থিক সহায়তা পাঠাতে শুরু করেন। বিকাশ, নগদ ও ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাওয়া সহায়তার মধ্যে ব্যাংক হিসাবে রবিবার বিকেল পর্যন্ত ১২ লাখ টাকার অধিক জমা হয়েছে।
একই দিন বিকেলে উপজেলার ধূলিয়া ইউনিয়নের আলোকচাঁদকাঠী গ্রামে তাদের বাড়িতে গিয়ে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছে দেওয়া হয়।
প্রশাসন জানিয়েছে, তিন ভাইয়ের নামে খোলা যৌথ হিসাবটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা যৌথভাবে পরিচালনা করবেন। তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন করে সরাসরি সহায়তা দেওয়া হবে।
ভবিষ্যতেও যাতে পরিবারটির দেখভাল অব্যাহত থাকে, সে জন্য উপজেলা কার্যালয়ে একটি স্থায়ী সরকারি নথি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দায়িত্ব পরিবর্তন হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিবারটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
জানা গেছে, স্থানীয় কলেজশিক্ষার্থী অমিত প্রথমে তিন ভাইয়ের দুর্দশার বিষয়টি ইউএনও মো. সালেহ আহমেদের নজরে আনেন। পরে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরীর পরামর্শ ও নির্দেশনায় তাদের জন্য তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ ও জরুরি খাদ্যসহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের সহায়তায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিষয়টি প্রচার হওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সালেহ আহমেদ প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ব্যাংক হিসাব খোলার কথা স্বীকার করে জানান, পরিবারটির প্রয়োজনীয় সবধরণের ব্যয় মেটাতে ওই ব্যাংক হিসাব থেকে খরচ করা হবে।