
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, দশমিনা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের দক্ষিণ রণগোপালদী গ্রামের কৃষক শাহ আলম জমাদ্দার উচ্চ ফলনশীল জি-৯ (গ্র্যান্ড নাইন) জাতের কলার বাণিজ্যিক চাষ করে এলাকায় নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছেন। প্রায় ২৫ বছর ধরে কৃষির সঙ্গে যুক্ত এই কৃষক অনলাইনে ভিডিও দেখে আগ্রহী হয়ে রংপুরের একটি নার্সারি থেকে ১০০টি টিস্যু কালচার চারা সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার বাগানে প্রায় ১৫০টি জি-৯ কলাগাছ রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এসএসিপি-রেইনস প্রকল্পের আওতায় শাহ আলম জমাদ্দারকে নগদ সহায়তার পাশাপাশি ৩০টি জি-৯ কলার চারা ও বিভিন্ন কৃষি উপকরণ দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত তার বাগান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দিচ্ছেন।
কৃষক শাহ আলম জমাদ্দার বলেন, আগে তিনি বরইসহ বিভিন্ন ফলের চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। পরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ ও এসএসিপি-রেইনস প্রকল্পের সহায়তায় জি-৯ কলা চাষে আগ্রহী হন। বর্তমানে দুই একর জমিতে ১২ ফুট দূরত্বে কলাগাছ রোপণ করেছেন। গাছের মাঝখানে আমের চারাও লাগানো হয়েছে।
তিনি বলেন, জি-৯ কলার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর ফলন ও বাজারমূল্য। সাধারণ কলার তুলনায় এ জাতের কলা আকারে বড়। প্রতিটি কাঁদিতে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০টি পর্যন্ত কলা ধরে। বর্তমানে আমার বাগানের ১৫ থেকে ১৬টি গাছে কলা এসেছে।
শাহ আলম জানান, নিজের নার্সারি থেকে প্রতিটি জি-৯ কলার চারা ন্যূনতম ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন। বাগান স্থাপনে শুরুতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। সঠিক পরিচর্যা ও বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এ চাষ থেকে বছরে উল্লেখযোগ্য লাভের আশা করছেন তিনি।
তার ভাষ্য, জি-৯ কলা চাষে তুলনামূলক কম শ্রম লাগে। গাছ বড় হলে বাঁশের ঠেকনা দিলেই চলে। নিয়মিত রাসায়নিক ব্যবহার না করে প্রয়োজন অনুযায়ী মোচা কাটার পর ফলকে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষায় সীমিত পরিসরে কীটনাশক প্রয়োগ করেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদের পরামর্শে নতুন নতুন ফলের চারা সংগ্রহ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন শাহ আলম। কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতাই তাকে নতুন উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করেছে বলে জানান তিনি।
শাহ আলমের নার্সারিতে ঘুরতে আসা অনুপ কুমার শানু বলেন, শাহ আলম জমাদ্দারের জি-৯ কলার বাগান দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ। এত সুন্দর ও পরিকল্পিতভাবে কলা চাষ করা হয়েছে, যা আমাদের এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। এ ধরনের আধুনিক ও উচ্চ ফলনশীল কলা চাষ অন্য কৃষকদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ বলেন, জি-৯ একটি উচ্চ ফলনশীল ও লাভজনক জাতের কলা। ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন। কৃষি বিভাগ সব সময় শাহ আলম জমাদ্দারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই, তার মতো প্রতিটি ইউনিয়নে আধুনিক কৃষি উদ্যোক্তা গড়ে উঠুক।
এসবি/এমআর