বাউফলে নোনা জলে ডুবেছে ‘নিরাপদ পানি প্রকল্প’- ৭ বছরেও পাননি সুপেয় পানি

হোম » বিশেষ প্রতিবেদন » বাউফলে নোনা জলে ডুবেছে ‘নিরাপদ পানি প্রকল্প’- ৭ বছরেও পাননি সুপেয় পানি
বৃহস্পতিবার ● ৭ মে ২০২৬


 

বাউফলে নোনা জলে ডুবেছে ‘নিরাপদ পানি প্রকল্প’- ৭ বছরেও পাননি সুপেয় পানি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামে প্রায় সাড়ে ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প’ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বাস্তবায়নের সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এলাকাবাসী একদিনও সুপেয় পানি পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

উপকূলীয় এলাকায় নিরাপদ পানির সংকট নিরসনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে গভীর নলকূপ, সাবমারসিবল পাম্প, চারটি ওভারহেড ট্যাংক, পাইপলাইন ও টয়লেট স্থাপন করা হয়। তবে পরীক্ষামূলকভাবে পানি উত্তোলনের সময় থেকেই দেখা যায়, সুপেয় পানির পরিবর্তে লবণাক্ত পানি উঠছে। এরপর থেকেই প্রকল্পটি আর কার্যকরভাবে চালু হয়নি।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, যথাযথ তদারকির অভাব এবং পরিকল্পনাগত ত্রুটির কারণেই প্রকল্পটি শুরু থেকেই ব্যর্থ হয়। কাজ শেষ হওয়ার পর ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টরা দায়িত্ব এড়িয়ে যান বলেও দাবি তাদের।

 

বাউফল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, প্রকল্প সংক্রান্ত কোনো ফাইল বর্তমানে অফিসে নেই, তাই বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।

 

প্রকল্প পরিচালনার জন্য স্থানীয়দের নিয়ে পানি ব্যবস্থাপনা কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান করা হয় স্থানীয় বাসিন্দা মো. কবির হোসেনকে। তার নামে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হলেও পরীক্ষামূলকভাবে পাম্প চালুর পর প্রায় ২৮ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে। পরে বিল অনাদায়ে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এলাকাবাসীর চাপের মুখে পরে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টরা বিল পরিশোধ করলে মামলা প্রত্যাহার করা হয়।

 

মো. কবির হোসেন সাগরকন্যাকে বলেন, এই প্রকল্প আমাদের কোনো কাজে আসেনি। সুপেয় পানির বদলে লবণ পানি উঠেছে। অথচ আমাকে না জানিয়ে কমিটির প্রধান করা হয় এবং আমার নামে বৈদ্যুতিক মিটার বসানো হয়। পরে বিদ্যুৎ বিলের মামলায় আমাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, গ্রামের ৫০টিরও বেশি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছে। নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ায় দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

 

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, আমার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৪:৩৭:১৮ ● ২৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ