এক লাখে রফাদফার চেষ্টা চরফ্যাশনে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

হোম » ভোলা » এক লাখে রফাদফার চেষ্টা চরফ্যাশনে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ
বৃহস্পতিবার ● ৭ মে ২০২৬


 

চরফ্যাশনের ইকরা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও অভিযুক্ত চিকিৎসক। ছবি- সংগৃহীত

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, চরফ্যাসন (ভোলা)

ভোলার চরফ্যাশনে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের সময় মুন্নি আক্তার (২০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্বজনরা চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলেছেন। পাশাপাশি ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক লাখ টাকায় সমঝোতার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (৬ মে) রাতে চরফ্যাশনের ইকরা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুন্নি আক্তার উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। তাঁর স্বামী কাশেম খন্দকার স্থানীয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।

মুন্নির বাবা আনোয়ার হোসেন সাগরকন্যাকে জানান, শুক্রবার দুপুরে তাঁর মেয়ের প্রসবব্যথা শুরু হলে তাকে ইকরা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আঁখি আক্তার কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই গর্ভের সন্তানের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। পরে নার্সের মাধ্যমে একটি ইনজেকশন দেওয়ার পর থেকেই মুন্নির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

পরিবারের দাবি, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হলেও মুন্নির মৃত্যু হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন রেখে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন বলে দ্রুত বরিশাল নেওয়ার পরামর্শ দেয়।

আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, পরে তারা লালমোহন হাসপাতালে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, অস্ত্রোপচারের সময়ই মুন্নির মৃত্যু হয়েছে। এরপর মরদেহ আবার ইকরা হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চাপে তারা লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরে যান এবং রাতেই দাফন সম্পন্ন করেন।

তিনি আরও জানান, পরে হাসপাতালের কর্মকর্তারা নবজাতকের চিকিৎসা খরচের কথা বলে তাদের বাড়িতে গিয়ে এক লাখ টাকা দিয়ে আসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও ডা. আঁখি আক্তারের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় কয়েকজন গর্ভবতী ও প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাসপাতালে গিয়ে ডা. আঁখি আক্তারকে পাওয়া যায়নি। ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে হাসপাতালের পরিচালক বশির আহমেদ সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, পরিবারটি আগে বাড়িতে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করেছিল। হাসপাতালে আনার সময় প্রসূতির অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। গর্ভের সন্তানের অবস্থা খারাপ হওয়ায় জরুরি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর জ্ঞান না ফেরায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকের ধারণা, অস্ত্রোপচারের সময় স্ট্রোক করায় ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১২:৩৭:০১ ● ২৩ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ