
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর বাউফলে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে রোগ নির্ণয় থেকে চিকিৎসা পর্যন্ত সবকিছুই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেকনিশিয়ান দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে- এমন অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকের সামনের ‘কথামনি ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি’তে প্রায়ই এমন চিত্র দেখা যায়।
উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের মো. জাহাঙ্গীর (৫০) তীব্র পেটব্যথা নিয়ে সম্প্রতি সকাল সাড়ে আটটার দিকে সেন্টারটিতে যান। তাকে জানানো হয়, অল্প সময়ের মধ্যেই চিকিৎসক আসবেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও চিকিৎসক না এলেও তার রক্ত, প্রস্রাব পরীক্ষা ও এক্স-রে সম্পন্ন করা হয়। এসব কার্যক্রম পরিচালনা করেন সেন্টারের কর্মচারী মাহবুবুর রহমান।
অভিযোগ রয়েছে, রোগীকে অপেক্ষা করিয়ে রেখে বেলা তিনটার দিকে তাকে ‘অ্যান্ডল’ ও ‘এমিস্ট্যাট ৮ মিলিগ্রাম’ ইনজেকশন কিনে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়। তখনও তিনি তীব্র যন্ত্রণায় কাতর ছিলেন।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সারারাত ব্যথায় কষ্ট পাওয়ার পর সকালে চিকিৎসার আশায় এখানে আসি। কিন্তু চিকিৎসক না আসায় আমি প্রতারিত হয়েছি। আগে জানালে সরকারি হাসপাতালে চলে যেতাম।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী সাগরকন্যাকে জানান, সংশ্লিষ্ট টেকনিশিয়ানের কোনো বৈধ সনদ নেই। তবুও তিনি নিয়মিত এক্স-রে করেন এবং চিকিৎসকের মতো পরামর্শ দেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সেন্টারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চিকিৎসকের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম (শামিম) জানান, তিনি বিকেল চারটায় চেম্বার করেন এবং মোবাইল ফোনে রোগীর বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। তবে রোগীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানোর বিষয়টি তিনি বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রউফ বলেন, নিবন্ধিত চিকিৎসক ছাড়া অন্য কারও মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এমন ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা সিভিল সার্জন মো. খালিদুর রহমান মিয়া জানান, চিকিৎসকের সরাসরি পরামর্শ ছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা ওষুধ দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।