
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
কুয়াকাটায় ক্ষুদ্র-পরিসরের সামুদ্রিক জেলেদের নিরাপত্তা জোরদারে ‘ব্যক্তিগত ভাসমান যন্ত্র (পিএফডি) উন্নয়ন’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ-কার্যশালা মঙ্গলবার শেষ হয়েছে।
সোমবার সকালে শুরু হওয়া কর্মশালায় শতাধিক সমুদ্রগামী বোটের মালিক, মাঝি ও জেলে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের পিএফডি’র সঠিক ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সমুদ্রে দুর্ঘটনা মোকাবিলার কৌশল হাতে-কলমে শেখানো হয়। পাশাপাশি স্বল্প খরচে স্থানীয় উপকরণ- যেমন বাইকের টিউব, রেক্সিন, ট্যাব, নজেল ও বাল্ব ব্যবহার করে জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম তৈরির বিষয়েও বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
কুয়াকাটার গ্রেভার ইন হোটেলে আয়োজিত এ কর্মশালা ‘সমুদ্রে জেলেদের নিরাপদ কর্মজীবন’ প্রকল্পের আওতায় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে এবং প্রফেসর ড. সাজেদুল হকের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহযোগিতা করে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এবং অর্থায়ন করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর ফিশিং সেফটি’।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. সাজেদুল হক বলেন, ‘সমুদ্রে কর্মরত জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।’ তিনি জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় ওয়ার্ল্ডফিশের ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘বোট মালিকদের দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত ও যথাযথ প্রস্তুতিই জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান উপাদান।’
কর্মশালার অংশ হিসেবে শতাধিক জেলের মধ্যে লাইফ জ্যাকেটসহ বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়, যা সমুদ্রে কাজের সময় ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।
উল্লেখ্য, গবেষণা প্রকল্পের আওতায় কুয়াকাটা ছাড়াও বরগুনার পাথরঘাটা এবং কক্সবাজার অঞ্চলের প্রায় ৩০০ জন মৎস্যজীবী সরাসরি উপকৃত হবেন। তাদের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ ও জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।