
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
কুয়াকাটার লতাচাপলী ইউনিয়নের বড়হরপাড়া খালের ওপর নির্মিত একটি আয়রন ব্রিজ ভেঙে পড়ার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এর ধ্বংসাবশেষ এখনো অপসারণ করা হয়নি। এতে অস্থায়ী কাঠের ব্রিজ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা; ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে নির্মিত মম্বিপাড়া ও পৌরগোজা গ্রামের মাঝামাঝি ‘সাধুর ব্রিজ’ নামে পরিচিত সেতুটি ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি পিকআপ ভ্যানসহ ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার পর চলাচল সচল রাখতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে প্রায় ৮ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি অস্থায়ী কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। তবে সময়ের ব্যবধানে সেটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে যাতায়াতকারীসহ প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করায় ভোগান্তি বেড়েছে।
মম্বিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক বলেন, ‘এই কাঠের ব্রিজ দিয়ে চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
মুসুল্লীয়াবাদ ইসলামীয় সিনিয়র মাদ্রাসার ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত ভাঙা ব্রিজের ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করে টেকসই নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয়রা জানান, খালের মধ্যে পড়ে থাকা ভাঙা ব্রিজের অংশ নতুন সেতু নির্মাণেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। দ্রুত ধ্বংসাবশেষ অপসারণ ও আধুনিক, টেকসই ব্রিজ নির্মাণের দাবি তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, ‘দুই বছর ধরে একটি ভেঙে পড়া সেতুর ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে- এটি চরম উদাসীনতার পরিচয়।’
লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে এবং নতুন ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জমান জানান, ‘নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।’