বরগুনার পাথরঘাটায় কালমেঘা খাল খননের দাবিতে মানববন্ধন

হোম পেজ » বরগুনা » বরগুনার পাথরঘাটায় কালমেঘা খাল খননের দাবিতে মানববন্ধন
মঙ্গলবার ● ২৪ মার্চ ২০২৬


 

বরগুনার পাথরঘাটায় কালমেঘা খাল খননের দাবিতে মানববন্ধন

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা খাল পুনঃখননের দাবিতে কলসি ও জাল নিয়ে ব্যতিক্রমী মানববন্ধন করেছেন কৃষক পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে দক্ষিণ কূপদোন আলুচাষি সমিতির আয়োজনে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী খালের ভেতরে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

 

জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ কূপদোন গ্রামের কৃষকরা মূলত আলু চাষের ওপর নির্ভরশীল। বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী কালমেঘা খাল একসময় এই এলাকার প্রধান সেচ উৎস ছিল। বর্তমানে খালটি প্রায় মৃত অবস্থায় রয়েছে। খালের তলদেশ কাদায় ভরাট হয়ে গেছে, কোথাও কোথাও জন্মেছে ঘাস। পানির প্রবাহ না থাকায় রবি মৌসুমে আলু চাষে মারাত্মক সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। মানববন্ধন থেকে বিষখালী নদীর উৎস থেকে কালমেঘা বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার খাল খননের দাবি জানানো হয়।

 

সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধন পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য দেন সমাজকর্মী মাসুম আহম্মদ, গোলাম মোস্তফা, ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, আনোয়ার হাজী, পরিবেশকর্মী আরিফুর রহমান, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম খোকন ও মো. জসীম উদ্দিন প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে থাকায় কৃষকদের সেচ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আগে খাল থেকেই সহজে পানি পাওয়া গেলেও এখন দূরের পুকুর থেকে কলসি বা মেশিনের সাহায্যে পানি আনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং সময় নষ্ট হচ্ছে।

 

কূপদোন গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, আগে এক বিঘা জমিতে আলু চাষে যে খরচ হতো, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। পানির জন্য আলাদা খরচ যোগ হওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই ওঠে না ঠিকমতো।

 

স্থানীয়রা জানান, একসময় এই এলাকায় কয়েক শত একর জমিতে আলু চাষ হতো। কিন্তু পানির সংকটের কারণে অনেক কৃষক চাষ কমিয়ে দিয়েছেন, কেউ কেউ বিকল্প ফসলে চলে যাচ্ছেন। তাদের মতে, কালমেঘা খাল পুনঃখনন করা হলে সেচ ব্যবস্থা সহজ হবে, খরচ কমবে এবং কৃষি উৎপাদন আবারও বাড়বে।

 

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকরা বলেন, খালটি তাদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। খালে পানি ফিরলে কৃষক বাঁচবে, অন্যথায় চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে। তারা দ্রুত খালটি পুনঃখননের দাবি জানান।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র ঘোষ জানান, স্থানীয় সেচ ব্যবস্থার অবনতি দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ বছর কূপদোন ও রূপদোন এলাকায় ৫০৬ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে, যা গত বছরের ৫৬০ হেক্টরের তুলনায় কম। খাল পুনঃখননের জন্য প্রেরিত তালিকায় কালমেঘা খালকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান জানান, পর্যায়ক্রমে খাল পুনঃখননের কাজ চলমান রয়েছে এবং অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা কালমেঘা খাল পুনঃখনন হলে স্থানীয় সেচ ব্যবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৪৫:৫৬ ● ৩৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ