বাউফলে আগাম তরমুজের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

হোম পেজ » লিড নিউজ » বাউফলে আগাম তরমুজের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি
বৃহস্পতিবার ● ৫ মার্চ ২০২৬


 

বাউফলে আগাম তরমুজের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলের উর্বর জমি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে আগাম জাতের তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। রমজান উপলক্ষে বাজারদর ভালো থাকায় উপজেলার এসব তরমুজ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে, ফলে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।

 

বাউফল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাউফলে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের তরমুজ চাষ করা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রমজানকে ঘিরে তরমুজের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আড়তদাররা সরাসরি বাউফলের তরমুজখেতে এসে কিনে নিচ্ছেন। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে এসব তরমুজ, যা ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, কুষ্টিয়া ও সিলেট অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।

 

উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী চরবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ, কালাইয়া, কেশবপুর, নাজিরপুর ও ধুলিয়া এলাকায় ব্যাপকভাবে তরমুজের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে ফলনও ভালো হয়েছে।

 

চন্দ্রদ্বীপ এলাকার কৃষক মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমি তিন একর জমিতে আগাম জাতের তরমুজ চাষ করেছি। প্রতি একরে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি একরে গড়ে ১৪০০ থেকে ১৫০০টি তরমুজ পাওয়া যায়। রমজানে চাহিদা বেশি থাকায় আড়তদাররা প্রতি একর তরমুজখেত ৩ থেকে ৪ লাখ টাকায় কিনে নিচ্ছেন। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভের আশা করছি।

 

চরকালাইয়া এলাকার কৃষক মো. হান্নান প্যাদা বলেন, আমি চার একর জমিতে আগাম জাতের তরমুজ চাষ করেছি। রমজান উপলক্ষে ঢাকার এক আড়তদারের কাছে পুরো চার একরের তরমুজখেত ঠিকা বিক্রি করে দিয়েছি। এতে গত বছরের তুলনায় বেশি লাভ হয়েছে।

 

খুলনা থেকে তরমুজ কিনতে আসা আড়তদার সাহেব আলী প্যাদা বলেন, বাউফলের তরমুজের স্বাদ ও মিষ্টতা ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা সরাসরি খেতে এসে কিনছেন।

 

ঢাকার কাওরান বাজারের ব্যাপারি আব্দুল গনি সিকদার বলেন, বাউফলের চরাঞ্চলের তরমুজ খুবই সুমিষ্ট। কয়েক বছর ধরেই আমরা এখানে এসে তরমুজ কিনে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছি, বিশেষ করে আগাম জাতের তরমুজ।

 

বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, বাউফলের মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত বীজ সরবরাহ ও নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়ার ফলে আগাম উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৩০:৩৬ ● ১৮ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ