
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে অবৈধভাবে ভারী যানবাহন পার্ক করে পণ্য লোড-আনলোড করায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে স্থানীয়দের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যস্ত এসব সড়কে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কার্যক্রম চলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন ২৫-৩০ টন ওজনের পণ্যবাহী ট্রাক সড়কের ওপর দাঁড় করিয়ে পণ্য ওঠানামা করা হচ্ছে। এতে সড়ক সংকুচিত হয়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি ভারী যানবাহনের চাপে সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির সময় সড়কের পাশ ধসে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, নেছারাবাদ ছালেহিয়া মাদ্রাসা ও আউডিয়াল স্কুল সংলগ্ন এলাকায় সড়কের ওপরেই পণ্য লোড-আনলোড করা হচ্ছে। এছাড়া কুনিয়ারি ব্রিজ থেকে কালাম চেয়ারম্যানের ইটভাটা পর্যন্ত সড়কে গাছের চারা ওঠানামা করতে দেখা গেছে। আকলম-কুড়িয়ানা সড়কেও একইভাবে যানবাহন দাঁড় করিয়ে চেরাই কাঠ লোড-আনলোড করা হচ্ছে, এতে সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের দাবি, একাধিকবার নিষেধ করা হলেও সংশ্লিষ্টরা তা অমান্য করে নিয়মিত এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে ভুট্টার মৌসুম হওয়ায় পণ্যবাহী গাড়ির চাপ বেড়েছে। একটি ব্রিজ ভাঙা থাকায় বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে লোড-আনলোড করতে হচ্ছে।’
তবে স্থানীয়দের মতে, নেছারাবাদে নির্ধারিত তিনটি লোড পয়েন্ট থাকলেও সামান্য খরচ বাঁচাতে সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সড়কের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেছারাবাদ থানার ওসি মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, ‘সড়কে গাড়ি পার্ক না করার জন্য চালকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তবে তারা তা মানছেন না। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।’
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, ‘লোড-আনলোডের জন্য পর্যাপ্ত নির্ধারিত স্থান রয়েছে। সড়কের ওপর পার্কিং করে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’