চিকিৎসকের বিচার দাবি তালতলীতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি-নবজাতকের জীবনসংকটে

হোম » লিড নিউজ » চিকিৎসকের বিচার দাবি তালতলীতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি-নবজাতকের জীবনসংকটে
বৃহস্পতিবার ● ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


 

ছবি- সংগৃহীত

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)

বরগুনার তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে প্রসূতি ও নবজাতকের জীবনসংকটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমন অভিযোগ করেন তালতলী উপজেলার ছাতনপাড়া গ্রামের প্রসূতি সাবিনা আক্তারের মা রানী বেগম।

 

রানী বেগম বলেন, ‘মোর মাইয়্যা তালতলী হাসপাতালের ডাক্তার মাহফুজা আক্তার মাইররা হালাইছিল। আল্লাহ বাঁচাইছে। এহন মোর মাইয়্যাডা হাসপাতালে মইররা-বাইচ্যা আছে। মুই ডাক্তার মাহফুজার বিচার চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভুল চিকিৎসা দিয়া মাইয়্যাডারে প্রায় মাইররা হালাইছিল। মুই কার কাছে বিচার দিমু।’

 

জানা গেছে, ছাতনপাড়া গ্রামের হাসান হাওলাদারের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সাবিনা আক্তার গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তালতলী পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসক ডাঃ মাহফুজা আক্তারের শরণাপন্ন হন। পরে তাকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে নরমাল ডেলিভারির পরামর্শ দেওয়া হয়। গত রবিবার সকালে স্বজনরা তাকে সেখানে ভর্তি করেন। অভিযোগ রয়েছে, ডাঃ মাহফুজা আক্তার ও দুই সেবিকা প্রায় ১০ ঘণ্টা নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করেন। এ সময় ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির পানি ভেঙে যায়, জরায়ুমুখে জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয় বলে দাবি করেন সাবিনার মা রানী বেগম ও শাশুড়ি খাদিজা বেগম।

 

পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়। স্বজনরা নিরুপায় হয়ে আমতলী সময় মেডিকেয়ার অ্যান্ড হসপিসে নিয়ে গেলে সেখানে দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। প্রসূতির একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। প্রাথমিক উন্নতি হলে মা ও নবজাতককে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

প্রসূতির স্বামী হাসান হাওলাদার বলেন, আল্লাহর রহমতে সময় মেডিকেয়ার অ্যান্ড হসপিসের চিকিৎসকদের অক্লান্ত চেষ্টায় আমার স্ত্রী ও সন্তান বেঁচে আছেন। তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ মাহফুজা আক্তার ও তার সহযোগীদের ভুল চিকিৎসায় আমার স্ত্রী-সন্তান মারা যেতে পারত। আমি এর বিচার চাই।

 

অভিযোগ অস্বীকার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাহফুজা আক্তার বলেন, রোগীর জরায়ুতে কোনো আঘাত করা হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। তিনি জানান, রোগীর স্বজনদের বারণ করা সত্ত্বেও তারা রোগীকে অন্যত্র নিয়ে গেছেন।

 

তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ভূপেন চন্দ্র মণ্ডল বলেন, নরমাল ডেলিভারিতে সাধারণত এমন জটিলতা হওয়ার কথা নয়। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এ বিষয়ে তালতলী থানার ওসি মো. আসাদুর রহমান বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:২২:১৩ ● ১৯৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ