গভীর সাগরে ডাকাতদের হামলা: বরগুনার দুই জেলে গুলিবিদ্ধ

হোম » লিড নিউজ » গভীর সাগরে ডাকাতদের হামলা: বরগুনার দুই জেলে গুলিবিদ্ধ
মঙ্গলবার ● ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


 

গভীর সাগরে ডাকাতদের হামলা: বরগুনার দুই জেলে গুলিবিদ্ধ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

বরগুনার পাথরঘাটা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে সুন্দরবন সংলগ্ন নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারের সময় ডাকাতদের এলোপাতাড়ি গুলিতে দুই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রবিবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার বিকেলে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বিষয়টি গণমাধ্যমে জানান।

 

গুলিবিদ্ধ জেলেরা হলেন পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড় টেংরা হাজিরখাল এলাকার নুর আলম খান (৪৮) এবং একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরলাঠিমারা এলাকার শাহজাহান (৪৫)। আহতদের প্রথমে পটুয়াখালীর মহিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

এফবি জাহিদ ট্রলারের মাঝি ফারুক মিয়া বলেন, রবিবার ভোররাত ৪টার দিকে জাল টানার সময় ১০ থেকে ১২ জন অস্ত্রধারী একটি ট্রলার হঠাৎ কাছে এসে কিছু বোঝার আগেই গুলি ছোড়া শুরু করে। এ সময় ১৪ জন জেলে দিকবিদিক ছুটাছুটি করলে নুর আলম ও শাহজাহান গুলিবিদ্ধ হন। ট্রলারের একাধিক স্থানে গুলির চিহ্ন রয়েছে। ইঞ্জিনের গতি বাড়িয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করায় ডাকাতরা কাউকে অপহরণ বা মারধর করতে পারেনি।

 

তিনি আরও বলেন, নুর আলমের পিঠে এবং শাহজাহানের বাম চোখের নিচে গুলি লাগে। পরে আহতদের মহিপুর ঘাটে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

 

গুলিবিদ্ধ নুর আলম খান সাগরকন্যাকে বলেন, গত দুই মাস ধরে গভীর সমুদ্রে ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে গভীর সমুদ্রে নিরাপদে মাছ শিকার করা সম্ভব হবে না।

 

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, গভীর সাগরে ডাকাতদের গুলিতে দুই জেলে আহত হয়েছেন। কোন বাহিনী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা এখনো জানা যায়নি। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি আরও জানান, গত ২১ জানুয়ারি পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের রুহিতা এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে রাজু, আব্দুল মালেকের ছেলে মাহবুব হোসেন ও রাজনকে ডাকাতরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। এখনো তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এর আগে ফোরকান মাঝি ও সিদ্দিকসহ আট জেলেকে অপহরণ করা হলেও মুক্তিপণের বিনিময়ে তারা ফিরে আসেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি। এভাবে চলতে থাকলে জেলেরা পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন বলেও উল্লেখ করেন।

 

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মংচেনলা বলেন, ঘটনাটি তার থানার আওতাধীন এলাকার বাইরে। এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৪:৩৯:১৭ ● ২৫১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ