
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদার জামায়াতের দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদের কাছে ২৬ হাজার ২৪৭ ভোটে পরাজিত হন। ডা. মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৪৩৮ ভোট এবং শহিদুল আলম তালুকদার পেয়েছেন ৭২ হাজার ১৯১ ভোট।
ধানের শীষের প্রার্থী শহিদুল আলমের পরাজয়ের পেছনে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, একগুঁয়েমি ও তীব্র দলীয় কোন্দলকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফারুক আহমেদ তালুকদার এবং সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদার।
অভিযোগ রয়েছে, মনোনয়ন যুদ্ধে জয়ী হলেও শহিদুল আলম মনোনয়ন-বঞ্চিত দুই প্রার্থীর সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় করেননি। বরং তাদের সমর্থক গোষ্ঠীকে নির্বাচন কার্যক্রম থেকে দূরে রেখে প্রচার চালান।
এ ছাড়া মনোনয়ন পাওয়ার পর উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের কমিটি নিজ বলয়ে পুনর্গঠন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল জব্বার মৃধার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তাকে বহিষ্কার করানো এবং নিজ ভাই তসলিম তালুকদারকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করা- এসব সিদ্ধান্ত দলীয় অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তোলে। উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটিকে পাশ কাটিয়ে নির্বাচনকালীন নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগেও তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ও অবমূল্যায়নমূলক বক্তব্য এবং অগোছালো প্রচার কৌশল ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির এক দায়িত্বশীল নেতা সাগরকন্যাকে বলেন, ত্রিমুখী কোন্দল, অর্থসংকট, গত দেড় বছরে উপজেলার কয়েকটি স্থানে দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে জনমনে অসন্তোষ এবং ভোটের আগেই ‘এমপি হয়ে যাওয়ার’ মানসিকতা- এসবই পরাজয়ের কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, পরাজয়ের কারণগুলো খতিয়ে দেখে তা সংশোধন করে দলকে আরও সুসংগঠিত করাই এখন আমাদের প্রধান কাজ।