মেলেনি আইনি প্রতিকার কুয়াকাটায় হোটেলে আটকে নির্যাতনের শিকার সাব্বিরের অবস্থা সংকটাপন্ন

হোম পেজ » পটুয়াখালী » মেলেনি আইনি প্রতিকার কুয়াকাটায় হোটেলে আটকে নির্যাতনের শিকার সাব্বিরের অবস্থা সংকটাপন্ন
শনিবার ● ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


 

কুয়াকাটায় মারধরের শিকার চিকিৎসাধীন মোটরসাইকেলচালক সাব্বির হাওলাদার

সাগরকন্যা প্রতিবেক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

কুয়াকাটায় মোটরসাইকেলচালক সাব্বির হাওলাদার (২২)কে আবাসিক হোটেলে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতনের ঘটনার এক মাস পরও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। গ্রামের মানুষের আর্থিক সহায়তায় কিছুদিন বরিশাল ও ঢাকায় চিকিৎসা চললেও বর্তমানে অর্থসংকটে চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। এতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় কুয়াকাটার যুবদল নেতা মো. রাসেল হাওলাদারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো আইনি প্রতিকার মেলেনি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

নির্যাতনের শিকার সাব্বিরের মা মোসা. পারভীন বেগম (৫৫) জানান, তার ছেলে মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে কুয়াকাটা থেকে ফেরার পথে যুবদল নেতা মো. রাসেল হাওলাদার (২৮)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন তাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলসহ কুয়াকাটার কুটুমবাড়ি হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে সাব্বির মোবাইলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায়, তাকে ছাড়িয়ে নিতে ৫ হাজার টাকা দিতে হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে আইনি সহায়তা চাইতে গেলে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার এক মাস পার হলেও থানা পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করেনি।

অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. রাসেল হাওলাদার জানান, কুয়াকাটার একটি আড়ত থেকে মাছ সরবরাহের জন্য দাদনের টাকা নিয়ে সাব্বির মাছ দেননি। এ কারণে আড়ত সংশ্লিষ্টরা তাকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দেয়। তাকে জামিনদার করা হলেও সাব্বির টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন। তবে এ ঘটনার সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। বরং চিকিৎসার জন্য তিনি স্থানীয়ভাবে অর্থ সংগ্রহ করে পরিবারকে সহায়তা করেছেন বলেও জানান।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং খোঁজ নিতে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে জানতে পারেন, পরিবার মামলায় আগ্রহী নয় এবং চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়েছিল। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে থানায় এ বিষয়ে কোনো লিখিত নেই; বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:২৬:১৫ ● ৪১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ