আট বছরে শেষ হয়নি আমতলী মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ

হোম পেজ » লিড নিউজ » আট বছরে শেষ হয়নি আমতলী মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ
সোমবার ● ১৯ জানুয়ারী ২০২৬


 

আট বছরে শেষ হয়নি আমতলী মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)

আমতলী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণকাজ আট বছরেও শেষ হয়নি। দীর্ঘসূত্রতার পাশাপাশি ঠিকাদার ও গণপূর্ত বিভাগের একশ্রেণির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী মানসম্মত সামগ্রী না দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি নিম্নমানের কাজের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নির্মাণশ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, গণপূর্ত বিভাগের লোকজনকে কাজের ১০-১২ শতাংশ ঘুষ দিতে হয়। এ কারণেই ঠিকাদার খরচ কমাতে নিম্নমানের কাজ করছেন।

 

জানা গেছে, ২০১৭ সালে ধর্ম মন্ত্রণালয় সারা দেশে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরগুনা গণপূর্ত বিভাগ আমতলী উপজেলা মডেল মসজিদের দরপত্র আহ্বান করে। ১২ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি পায় পটুয়াখালীর ‘আবুল কালাম আজাদ ট্রেডার্স’। কার্যাদেশ অনুযায়ী দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরুই করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। পরে ২০২১ সালের অক্টোবরে মেয়াদ বাড়িয়ে কাজ শুরু হলেও জমিজটিলতার কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় চার বছর কাজ বন্ধ থাকার পর চুক্তি বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়।

 

২০২৫ সালের জুনে নতুন করে কাজ পায় পটুয়াখালীর ঠিকাদার ফিরোজ মিয়া। তিনি গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কাজ শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, কাজের শুরু থেকেই তিনি নিম্নমানের রড, ইট, সিমেন্ট ও পাথর ব্যবহার করছেন। এতে স্থানীয়দের বাধার মুখে এক সপ্তাহ কাজ বন্ধ থাকে। এরপর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুল ইসলাম কাজ তদারকি শুরু করলেও অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অগোচরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের কাজ অব্যাহত রাখে। বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

 

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিম্নমানের ইট স্তুপ করে রাখা হয়েছে এবং সেসব ইট দিয়েই মসজিদের সলিংয়ের কাজ চলছে। পাশাপাশি ঢালাইয়ের জন্য নিম্নমানের বালু ও পাথর মজুত রাখা হয়েছে।

 

আমতলী পৌরসভার নাগরিক মো. রিপন মুন্সি, জালাল খান ও সফিকুল ইসলাম সোহাগ তালুকদার বলেন, দেশের অন্যান্য মডেল মসজিদে মুসল্লিরা নিয়মিত নামাজ আদায় করছেন, অথচ আমতলীতে আট বছরেও নির্মাণ শেষ হয়নি। এখন কাজ চললেও তাতে অনিয়ম হচ্ছে। তারা দায়ী ঠিকাদার ও গণপূর্ত বিভাগের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

 

অভিযোগ প্রসঙ্গে ঠিকাদার ফিরোজ মিয়া সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। খারাপ ইট ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাতে কথা বলতে অপারগতা জানান।

 

বরগুনা গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম মিরাজ বলেন, সলিংয়ের জন্য কিছু নিম্নমানের ইট আনা হয়েছিল, যা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে তুলে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম বলেন, এ বিষয়ে কেউ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে জেলা প্রশাসকের সমন্বয় সভায় বিষয়টি আলোচিত হয়েছে কি না-এ প্রশ্নে তিনি জানান, তা তাঁর জানা নেই।

 

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, জেলা প্রশাসকের সমন্বয় সভায় মডেল মসজিদের অনিয়ম নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৩২:১৮ ● ৩৩ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ