
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনার নিখোঁজ ১৭ মৎস্য জেলের দুই বছর পর সন্ধান মিলেছে ভারতের গুজরাট রাজ্যের একটি কারাগারে। বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কবলে পড়েছিলেন তারা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)।
নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নের গাজী মাহমুদ গ্রামের ৭ জন- আবদুর রব মিয়া, মনির হোসেন, খলিলুর রহমান, লিটন হাওলাদার, শহিদুল ইসলাম, মো. কালুমিয়া ও সিদ্দিক মৃধা। ঢলুয়া ইউনিয়নের মরখালী গ্রামের ৯ জন- আবদুল খালেক বয়াতি, আউয়াল বিশ্বাস, আল আমিন, নান্টু খান, মো. ইউনুস, মো. সোবাহান খান, মো. মাহতাব, মো. কামাল ও মো. ফারুক। এছাড়া বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার ছোট টেংরা এলাকার একজন জেলের নাম জানা যায়নি।
জানা যায়, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকা থেকে ‘এফবি এলাহী ভরসা’ নামের ট্রলার নিয়ে ১৭ জন জেলে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যান। ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কবলে পড়ে ট্রলারটি নিখোঁজ হয়। এরপর দুই বছর তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি।
বরগুনা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার জেলা ইন্টেলিজেন্স অফিসার মো. কামরুজ্জামান জানান, ‘সম্প্রতি আমাদের কাছে তথ্য এসেছে যে নিখোঁজ জেলেরা গুজরাটের একটি কারাগারে বন্দি আছেন। পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের পর ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলেদের পরিবাররা স্বস্তি পেয়েছেন। ইউনুস সরদারের মা তারাবানু (৭০) বলেন, ‘শুনেছি মোর পোলাডা ইন্ডিয়ার জেলখানায় আছে। দুই বছর ধরে নিখোঁজ ছিল। এই খবর শুনে মোর শূন্য বুকটা ভরে গেছে।’ জেলে আল আমিনের স্ত্রী সালমা আক্তার বলেন, ‘দুই বছর তিন মাস পর জানতে পারলাম স্বামী জীবিত আছে। পুলিশ বলছে সরকারের সহযোগিতায় দ্রুত দেশে ফিরতে পারবেন।’
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘নিখোঁজ ট্রলারের সব জেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় তথ্য পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। আশা করি সরকার দ্রুত উদ্যোগ নেবেন।’ বরগুনা সদর নলটোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সফিকুজ্জামান মাহফুজ বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের ৭ জন জেলের খোঁজ পাওয়ায় পরিবারগুলো স্বস্তি পেয়েছে।’ বরগুনা জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার জানান, ‘জেলেরা যেন দেশে ফিরতে পারে, তার জন্য জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’