
মো. মহসীন খান
ডিসেম্বর বাঙালির জীবনে অহংকারের মাস। দিকে দিকে উড়তে থাকে বিজয়ের পতাকা। মহান বিজয়ের এই মাসেই একে একে মুক্ত হয় শত্রু-নিয়ন্ত্রিত বাংলার গ্রাম, শহর ও বন্দর। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকায় ওঠে স্বাধীনতার পতাকা। বাঙালির বিজয় আর পাকিস্তান ও রাজাকারদের পরাজয়ের গল্পে ভরে ওঠে এ সময়।
আজ ৮ ডিসেম্বর, সোমবার। ১৯৭১ সালের এই দিনে যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধে বরিশাল, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠি ছাড়তে বাধ্য হয় পাক হানাদার বাহিনী। মুক্তিসেনারা দক্ষিণাঞ্চলের এই তিন জেলা শত্রুমুক্ত ঘোষণা করেন।
এদিন ইয়াহিয়া খান আন্তর্জাতিক মহলে যুদ্ধবিরতির জন্য তদবির শুরু করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ যুদ্ধবিরতির বিষয়ে উদ্যোগ নেয়। তবে সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া), যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও পোল্যান্ড ভোটদানে বিরত থাকে।
একাত্তরের এই দিনে আসে আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা। বাংলাদেশ–ভারত যৌথ বাহিনীর অগ্রযাত্রার প্রেক্ষাপটে ভারতের সরকারি মুখপাত্র জানান, পাকিস্তান যদি পূর্ব বাংলায় পরাজয় স্বীকার করে নেয়, তবে ভারত সব এলাকায় যুদ্ধ বন্ধ করবে।
ঢাকায় হানাদার বাহিনীর ঘাঁটিগুলোতে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী বিমান হামলা জোরদার করে। নিশ্চিত পরাজয়ের শঙ্কায় ইয়াহিয়া খান কেন্দ্রে কোয়ালিশন সরকার গঠনের আহ্বান জানান। এদিকে মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়ের স্বপ্নে অটল থেকে এগিয়ে যেতে থাকেন। হানাদার বাহিনী তখন সাধারণ মানুষের ওপর বর্বরতা বাড়িয়ে দেয়।
এদিন পাকিস্তানের ৬ নম্বর সেক্টরের উপ-সামরিক আইন প্রশাসক সারাদেশে বিকেল ৫টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সান্ধ্য আইন জারি করেন।
যুদ্ধের শুরুতে ভারতীয় বাহিনী প্রধান জেনারেল মানেকশ’ পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। ৮ ডিসেম্বর আবারও আকাশ বাণী থেকে প্রচারিত হয় তার সেই আহ্বান। তিনি বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করলে জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী সম্মানজনক ব্যবহার করা হবে। সমুদ্রপথে পালানোর সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
এদিন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে দেশবাসীর প্রতি শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
-চলবে
লেখক: শিক্ষক ও সাংবাদিক