
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
ঘন ঘন লোডশেডিং ও দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাবে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। সৈকতের জিরো পয়েন্টে হাতেগোনা কিছু পর্যটক দেখা গেলেও লেম্বুর চর, শুটকি পল্লী, ঝাউ বাগান, গঙ্গামতি ও মিশ্রীপাড়া বৌদ্ধ বিহারসহ অধিকাংশ পর্যটন স্পট এখন অনেকটাই ফাঁকা।
গত ১৫ দিনে পর্যটক উপস্থিতি কমে যাওয়ায় লোকসানে পড়েছেন হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ মালিক, যানবাহন চালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। কুয়াকাটা সৈকতে ঝিনুকের দোকানী রাশেদ হোসেন বলেন, ‘এই সময়টাতে সাধারণত ভালো পর্যটক থাকে। কিন্তু লোডশেডিং আর জ্বালানি সংকটে বাস ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়াতে পর্যটক একেবারেই কমে গেছে। ব্যবসা চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।’
একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়ে কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল কনসাই ইন এর শেয়ার হোল্ডার রাকিব ভদ্র বলেন, ‘বিদ্যুত না থাকলে হোটেলে অবস্থানরত পর্যটকদের ভ্যাপসা গরম থেকে রক্ষায় ফ্যান অথবা এসি সচল রাখতে হয়। জ্বালানি সংকটে তাও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দিনকে দিন পর্যটক কমে যাচ্ছে। খরচ তুলতে না পারায় আমাদের মত অনেকেই হোটেল বন্ধ রাখার কথা ভাবছেন।’
অন্যদিকে, স্বল্পসংখ্যক পর্যটক যারা কুয়াকাটায় অবস্থান করছেন, তারাও পড়েছেন ভোগান্তিতে। ঢাকা থেকে আগত পর্যটক সুমন চক্রবর্তী বলেন, ‘ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, গরমও বেশি। আবার জ্বালানি সংকটের কারণে বাড়ি ফেরার বিষয়েও দুশ্চিন্তায় আছি।’
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ সংশ্লিষ্টদের কাছে সংকট নিরসনে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।