
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতিশীল বলে সূত্রগুলো থেকে নিশ্তি করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ১৯৭। গত ২৪ ঘণ্টায় বরগুনা সদর হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছেন ২১ জন। এই তথ্য মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে বরগুনা সিভিল সার্জন কার্যালয়।
বরগুনা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে ১১৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সদর হাসপাতালে ৬০ জন, এবং জেলার পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ৫৭ জন। উপজেলা পর্যায়ে ভর্তি রোগীর মধ্যে আমতলীতে ৩, বামনায় ২, বেতাগীতে ৪ ও পাথরঘাটায় ৯ জন।
চলতি বছর সরকারি হিসাব অনুযায়ী বরগুনায় ডেঙ্গু চিকিৎসা নিয়েছেন ৯ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে ৮ হাজার ৯২৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৭ হাজার ৪৪ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ হাজার ৯৮৫ জন।
জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যায় সদরের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাথরঘাটা উপজেলা, যেখানে ৯১০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। জেলায় সরকারি হিসাবে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু ১৫ জনের। এর মধ্যে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ১২ জন, আমতলী হাসপাতালে ১ জন এবং পাথরঘাটায় ২ জন। এছাড়া জেলার বাইরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্তত ৪৯ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, ফলে বেসরকারি হিসাবে মোট মৃত্যু প্রায় ৬৪।
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ সাগরকন্যাকে বলেন, মার্চেই বরগুনাকে ডেঙ্গুর হটস্পট ঘোষণা করা হয়েছিল। বিভিন্ন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি, স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় ও স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক রোগীর মধ্যেও সরকারি হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা ১৫ এ সীমাবদ্ধ রাখা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। ডেঙ্গু পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে সচেতনতা বৃদ্ধি ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের উদ্যোগ জোরদার করলে ঝুঁকি অনেকটা কমানো সম্ভব।