
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর মহিপুরে ২০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন একটি কাঁচা রাস্তায়। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি হাঁটু সমান কাদায় পরিণত হয়। ফলে যানবাহন চলাচল দূরের থাক, ঠিকভাবে হাঁটাও সম্ভব হয় না। স্থানীয়দের ভাষায়, রাস্তা নয়, যেন ধান চাষের জমি।
এই সড়কটি মহিপুর থানা সদর থেকে কাটাভারানী বেড়িবাঁধ হয়ে ডাবলুগঞ্জ ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে মনসাতলী গ্রাম হয়ে পাশের ধুলাসার ইউনিয়নের তারিকাটা-অনন্তপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ কাঁচা রাস্তায় অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। দীর্ঘ ৫৫ বছরেও রাস্তা পাকা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
মনসাতলী গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব আলম বলেন, আমরা যেন ভিন্ন কোনো মানচিত্রে বাস করছি। বর্ষায় কাদা পানিতে হাঁটা যায় না, মনে হয় জমিতে হালচাষ করা হয়েছে।
তারিকাটা গ্রামের জহিরদ্দিন বলেন, বিকল্প পথ নেই। তাই কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। বহুদিন ধরে আবেদন করলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের অনেক জায়গায় মাটি সরে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। মহিপুর বাজার থেকে দুই কিলোমিটার ইট সলিংয়ের রাস্তারও আর কোনো চিহ্ন নেই।
এই সড়ক দিয়ে তিন ইউনিয়নের শিক্ষার্থীরা মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ধুলাসার বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল কলেজসহ অন্তত ১০টির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। বর্ষায় কর্দমাক্ত রাস্তায় পড়ে তাদের বই-খাতা নষ্ট হয়, উপস্থিতিও কমে যায়।
তারিকাটা গ্রামের গৃহবধূ মর্জিনা বেগম বলেন, অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের নিয়ে চলাচল করা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
একই গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল ঘরামি জানান, কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পেরে গ্রামের ছোট বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হয়।
তারিকাটা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ফারজানা জানায়, প্রতিদিন কাদা পানিতে হেঁটে ক্লাস করতে গিয়ে পায়ে ক্ষত হয়েছে। কলেজ শিক্ষার্থী সজিব বলেন, ভিজে কাদা মিশ্রিত পানিতে ইউনিফর্ম নষ্ট হয়।
ধুলাসার বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইব্রাহিম জানান, বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অর্ধেকে নেমে আসে।
মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী ফজলু গাজী বলেন, তিন ইউনিয়নের জন্য রাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ইউনিয়নের পক্ষে এত বড় বরাদ্দ দেয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি উপজেলা পরিষদকে জানানো হয়েছে।
এলজিইডি কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাদেকুর রহমান জানান, নতুন কোনো প্রকল্প এখনো নেই। তবে তালিকায় রাস্তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিগগির বরাদ্দ পাওয়ার চেষ্টা চলছে।