সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নেছারাবাদে জামায়াতে ইসলামীর এক ওয়ার্ড সভাপতির বাড়িতে ঢুকে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে শফিকুল ইসলাম ও তাঁর ভাই সিদ্দিকুর রহমান আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শফিকুল ইসলাম সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি অভিযোগ করেন, শনিবার দুপুরে ইমরান খন্দকারের নেতৃত্বে মনোজ বিশ্বাস, জাকির খান, সুমন খানসহ সাত-আটজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। মন্দির ভাঙা ও মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ তুলে তাঁরা তাঁর ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁর ভাই সিদ্দিকুর রহমান এগিয়ে এলে তাঁকেও মারধর করা হয়। ভাইকে রক্ষা করতে গেলে শফিকুলের ওপর আবারও হামলা চালানো হয়। এতে তাঁর মাথা ফেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের টুটুল আইচের নির্দেশনায় এ হামলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টুটুল আইচ। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর শফিকুল তাঁদের শীতলা মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত একটি জমি দখলে নিয়েছেন। এ জমি নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ রয়েছে। তবে শনিবার দুপুরে তিনি ইউনিয়নের দুর্গাকাঠীতে একটি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হামলার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। মন্দিরের ঘটনার সঙ্গে এ হামলার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
টুটুল আইচ আরও বলেন, ইমরান খন্দকার ও শফিকুলের মধ্যে একটি সুপারি বাগান নিয়ে বিরোধ রয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। ওই বিরোধে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে জেনেছেন।
অভিযুক্ত ইমরান খন্দকার বলেন, সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের একটি পুকুরসহ ২৭ শতাংশ জমির সুপারি বাগান তিনি তিন বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেন। শনিবার বাগান থেকে সুপারি পাড়তে গেলে শফিকুল, তাঁর ভাই সিদ্দিকসহ কয়েকজন এসে সুপারি নিয়ে যান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁরা তাঁদের ওপর হামলা চালান। আত্মরক্ষার্থে তাঁরাও দু-চারটি কিল-ঘুষি দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
নেছারাবাদ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রশিদ বলেন, শফিকুল তাঁদের দলের সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি। শনিবার দুপুরে ইমরান, মনোজ, জাকিরসহ কয়েকজন তাঁর বাড়িতে ঢুকে মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ তুলে অতর্কিত হামলা চালান। দলীয় কর্মী হিসেবে তাঁরা শফিকুলের পাশে রয়েছেন।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা তিনি শুনেছেন। একটি পক্ষ থানায় এসেছিল। তাঁদের আগে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।