
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পিরোজপুর
পিরোজপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ কোনোভাবেই কমছে না। চলতি বছরে জেলাটিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৮ জন। বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে পিরোজপুরে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ। এদিকে রোগীর চাপ বাড়লেও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সের সংকটের অভিযোগ তুলেছেন রোগীর স্বজনেরা।
জেলা সদর হাসপাতালসহ সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ১৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪ হাজার ৮০১ জন। বর্তমানে সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ২১৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
পিরোজপুরের পুরোনো ১০০ শয্যার হাসপাতালের পরিবর্তে নবনির্মিত ২৫০ শয্যার হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। তবে রোগীর চাপের তুলনায় চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সের অভাবে রোগীরা যথাযথ চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না।
চিকিৎসাসেবা নিতে এসে পরীক্ষার রিপোর্ট পেতেও ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। স্বজনদের অভিযোগ, সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে তিন দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে অনেকেই বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করাচ্ছেন। ফলে বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি দুর্ভোগও বাড়ছে।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে ডেঙ্গু ওয়ার্ড আলাদা করা হয়েছে। পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে সব ধরনের পরীক্ষার সুবিধাও চালু রয়েছে।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান বলেন, মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে ডেঙ্গু ওয়ার্ড আলাদা করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা হাসপাতালে সব ধরনের পরীক্ষার সুবিধা চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।