
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই ও সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খান বিদ্যুৎকেন্দ্রের টাকা নিয়ে পালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি। একই সঙ্গে পায়রা বন্দর ড্রেজিং প্রকল্পে ৬ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে বরগুনা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন চিফ হুইপ।
সাবেক সরকারের দুর্নীতির সমালোচনা করে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আপনারা লুটপাটের কথা শুনেছেন, দেখেননি। এভাবে দেশটাকে লুটপাট করতে পারে, তা চিন্তা করা যায় না। না দেখলে আপনারা বুঝতে পারবেন না।’
সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার বেয়াই বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। প্ল্যান্ট আছে, বিদ্যুৎ নেই। কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। এভাবে দেশটাকে ধ্বংস করেছে শেখ হাসিনা।’
পায়রা বন্দর ড্রেজিং প্রকল্পে ৬ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ তুলে চিফ হুইপ বলেন, এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র তিনি প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েছেন।
জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সংবিধানের একটি দাঁড়ি-কমা পরিবর্তন করতে হলেও সংশোধনের প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটি রয়েছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, ভারতের সংবিধান প্রণয়নের পর ১০৬ বার সংশোধন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশটা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। ১৮ কোটি মানুষের এই দেশ আমাদেরই রক্ষা করতে হবে। আমরা গণতান্ত্রিকভাবে দেশ চালাচ্ছি। পাঁচ বছর দেশ চালানোর পর আপনারা প্রশ্ন করবেন, আমরা কীভাবে দেশ পরিচালনা করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করেছেন। এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের মানুষ যেন শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিদেশে পাঠানোর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ জীবনযাপনের প্রসঙ্গ টেনে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি একসঙ্গে খাবার খেয়েছেন। খাবারের মেন্যুতে ছিল ঢেঁড়স ভাজি ও কুমড়ার ভর্তা। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ দেশে চাঁদাবাজদের স্থান হবে না।’
বিদ্যুৎ নিয়ে আন্দোলনের প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, বিদ্যুৎ না পেলে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে - এ ধরনের স্লোগান দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। সরকার দেশের মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিগত সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আমাদের পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে দিন। আমরা দেশটাকে নতুনভাবে সাজাব।’
এর আগে হেলিকপ্টারযোগে বরগুনায় পৌঁছালে চিফ হুইপকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার ও পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. হুমায়ুন হাসান শাহিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ফজলুল হক মাস্টার, সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আলহাজ মো. নুরুল আমীনসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা।