
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট
মরদেহের নাকে থাকা নাকফুল ও বাড়িতে রাখা অন্য একটি সালোয়ারের কাপড়ের মিল থেকে প্রায় দুই মাস আগে নিখোঁজ এক নারীর পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের একজনের কাছ থেকে নিহত নারীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে মোংলা থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রেফাতুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ আগস্ট মোংলা ফেরিঘাট এলাকা থেকে নিখোঁজ হন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মালগাজী গ্রামের আসমা বেগম (৩৯)। তিনি আঃ জবেদ আলী ও করিমন বিবির মেয়ে। নিখোঁজের ছয় দিন পর, ২০ আগস্ট খুলনার বটিয়াঘাটা থানার কাজীবাছা নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে রূপসা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি।
পরে নৌ পুলিশের বেতার বার্তায় প্রচারিত মরদেহের ছবি দেখে মোংলা থানা পুলিশ আসমার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহের পরনে থাকা সালোয়ারের রং ও নকশার সঙ্গে বাড়িতে রাখা আরেকটি সালোয়ারের মিল খুঁজে পান। তাঁদের ভাষ্য, দুটি সালোয়ারই একই থান কাপড় থেকে তৈরি। এ ছাড়া মরদেহের নাকে থাকা নাকফুল দেখে তাঁরা নিশ্চিত হন, সেটি নিখোঁজ আসমা বেগমের মরদেহ।
সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম জানান, নিখোঁজের ঘটনায় মোংলা থানায় করা সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে দীর্ঘ তদন্ত চালানো হয়। ভুক্তভোগীর পরিচয় শনাক্তের পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন খুলনার দাকোপ উপজেলার লাউডোব এলাকার ইকরামুল শেখ (৪০) এবং ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মো. মীর আলী (৪৮)।
পুলিশের ভাষ্য, ইকরামুল শেখ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা এবং হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকেই নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রায় ৬০ দিনের তদন্ত শেষে গ্রেপ্তার দুজনকে বুধবার বিকেলে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে।