
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নেছারাবাদে নিখোঁজের এক দিন পর বিপুল সিকদার (৫০) নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সারেংকাঠী ইউনিয়নের গয়েশকাঠী গ্রামে বাড়ির পাশের ধানক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিপুল সিকদার ওই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিনোদ সিকদারের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন বিপুল। রাতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পায়নি পরিবার। সোমবার বিকেলে বাড়ির পাশের ধানক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাঁর মরদেহ দেখতে পান। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।
নিহতের বড় ভাই বিধান সিকদার জানান, তাঁর ভাই কৃষিকাজ করতেন। ঘটনার দিন দুপুরে বিধানের স্ত্রী মাধবী কথা বলার জন্য বিপুলকে ডাকলেও তিনি সাড়া না দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর আর ফেরেননি।
বিধান সিকদার বলেন, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল বলে জানা নেই। তাঁর ভাইয়ের শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্নও দেখেননি। তবে নিখোঁজ হওয়ার আগে বিপুল তাঁর স্ত্রী মাধবীর গলার একটি চেইন স্থানীয় বাজারের এক স্বর্ণকারের দোকানে বন্ধক রেখেছিলেন। চেইনটি ফেরত আনার কথা স্ত্রী বললেও এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো বিরোধ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় চৌকিদার সুব্রত রায় জানান, মরদেহের পাশে একটি পুরোনো বোতল পাওয়া গেছে। সেটি বিষের বোতল, নাকি ইরিধানে প্রয়োগের ওষুধ, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।
পাটিকেলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. মনসুর আহম্মেদ জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা সম্ভব নয়।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।