
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় কিডনিজনিত জটিলতায় আক্রান্ত এক স্বজনের জীবন বাঁচাতে কিডনি দানে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তাঁর দুই নিকটাত্মীয়। মামার জন্য কিডনি দিতে প্রস্তুত ভাগিনা মাওলানা সবুজ। অন্যদিকে, চাচাকে বাঁচাতে কিডনি দিতে চান ভাতিজী ময়না বেগম।
কুয়াকাটা পৌরসভার কচ্ছপখালী এলাকার ৬০ বছর বয়সী ব্যবসায়ী হাজী মো. নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার কিডনি ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। এ অবস্থায় এগিয়ে এসেছেন তাঁর একাধিক নিকট আত্মীয়। স্বজনদের এমন উদ্যোগে পরিবারে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছেন হাজী নজরুল ইসলাম। দুই থেকে তিন মাস আগে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার কিডনি ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
চাচার অসুস্থতার খবর পেয়ে কিডনি দানের আগ্রহ প্রকাশ করেন ভাতিজী ময়না বেগম। একইভাবে মামাকে সুস্থ করে তুলতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানান ভাগিনা মাওলানা সবুজ।
ময়না বেগম বলেন, ‘হাজী মো. নজরুল ইসলাম আমার চাচা। আমি চাই, আমার চাচা বেঁচে থাকুন এবং সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুন। তাঁকে বাঁচাতে যদি আমার কিডনির প্রয়োজন হয়, তাহলে আমি স্বেচ্ছায় কিডনি দিতে রাজি আছি।’
মাওলানা সবুজ বলেন, ‘আমার একটি কিডনি দিয়ে যদি আমার মামা সুস্থ হয়ে ওঠেন, তাহলে আমি কিডনি দিতে প্রস্তুত। আমরা চাই, আমাদের প্রিয় মামা সুস্থ হয়ে আবারও আমাদের মাঝে ফিরে আসুন।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, ময়না বেগম ও মাওলানা সবুজের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ক্রস-ম্যাচিংয়ের প্রক্রিয়া চলছে। পরীক্ষার ফলাফল, শারীরিক উপযুক্ততা এবং চিকিৎসকদের পরামর্শের ভিত্তিতে কিডনি প্রতিস্থাপনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রিয় স্বজনের জীবন বাঁচাতে তাঁদের এই উদ্যোগ পরিবারে আশার আলো দেখাচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা আশা করছেন, চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষে নজরুল ইসলাম সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। এদিকে, মামার জন্য ভাগিনা ও চাচার জন্য ভাতিজীর কিডনি দানে প্রস্তুত থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ায় কুয়াকাটায় কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।