সমুদ্রে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় জেলেদের অসন্তোষ

হোম » পটুয়াখালী » সমুদ্রে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় জেলেদের অসন্তোষ
বৃহস্পতিবার ● ৮ অক্টোবর ২০২৬


 

সমুদ্রে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় জেলেদের অসন্তোষ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

 

ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বুধবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে সমুদ্র ও সমুদ্র মোহনা সংলগ্ন নদীতে শুরু হয়েছে ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা মেনে গভীর সমুদ্র থেকে তীরে ফিরছেন জেলেরা। ইতোমধ্যে পটুয়াখালীর মহিপুর-আলিপুর, কুয়াকাটা, রাঙ্গাবালীসহ উপকূলের বিভিন্ন এলাকার হাজারো জেলে তীরে ফিরেছেন।

 

তবে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সমুদ্রে ফেরার পর আবারও ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জেলেরা। তাঁদের দাবি, এখনো ইলিশের পেটে ডিম আসেনি। প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা নিয়েও তাঁরা হতাশ।

 

জেলেরা বলছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে তাঁরা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকবেন। তবে নিষেধাজ্ঞার সময়ে দেশের জলসীমায় পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেদের মাছ ধরা বন্ধে নৌবাহিনী ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বাড়ানো এবং প্রকৃত জেলেদের মধ্যে প্রণোদনার পরিমাণ বাড়িয়ে সঠিকভাবে বিতরণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

 

কুয়াকাটা আশার আলো জেলে সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি নিজাম শেখ বলেন, ‘সমুদ্রে মাছ শিকার করতে গিয়ে বেশিরভাগ জেলে শূন্য হাতে তীরে ফিরছেন। আগের মতো সাগরে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। দেশি-বিদেশি অবৈধ ট্রলিং বোটের পাশাপাশি ভারতীয় জেলেদের আধিপত্যও চলছে। এসব বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে বারবার নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তার ওপর আবহাওয়াও প্রতিকূলে।’

 

জেলে আবুবক্কর বলেন, ‘এমনিতেই সাগরে মাছ পাচ্ছি না, তার ওপর এখন আবার নিষেধাজ্ঞা। সরকার যে প্রণোদনা দেয়, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। চালের সঙ্গে ডাল ও তেল দেওয়ার দাবি জানাই।’

 

ট্রলার মাঝি মো. বসির বলেন, ‘আমরা জেলেরা বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংকের ঋণে জর্জরিত। এর সঙ্গে রয়েছে দাদনের বোঝা। এই ঋণের চাপ মাথায় নিয়ে জেলে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সবাই হতাশ।’

 

মহিপুর মৎস্য আড়তদার সমবায় মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফজলু গাজী বলেন, ‘দুই-তিন বছর ধরে সাগরে মাছ পড়ছে না। যখন একটু মাছের দেখা মেলে, তখনই আবহাওয়া খারাপ হয়। জেলেদের প্রণোদনা আরও বাড়ানো উচিত। নিষেধাজ্ঞার সময়ে বঙ্গোপসাগরে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের টহল জোরদার করা দরকার। অবরোধের সুযোগে মিয়ানমার ও ভারতীয় জেলেরা আমাদের জলসীমায় ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যায়।’

 

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, ‘ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মা ইলিশসহ সামুদ্রিক সব ধরনের মাছের প্রজনন মৌসুম চলছে। মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমুদ্রে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এতে শেষ পর্যন্ত লাভবান হবেন মৎস্যজীবীরাই।’

 

তিনি আরও বলেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞাকালে উপজেলার ১৮ হাজার নিবন্ধিত জেলেকে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। নিবন্ধনের বাইরে থাকা জেলেদেরও পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ ও বাজারজাত করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৪৪:৩৬ ● ২২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ