তালতলীতে ইউরিয়া সারের হাহাকার, অতিরিক্ত দামেও মিলছে না

হোম » কৃষি » তালতলীতে ইউরিয়া সারের হাহাকার, অতিরিক্ত দামেও মিলছে না
সোমবার ● ৫ অক্টোবর ২০২৬


এটি একটি প্রতীকী ছবিসাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)

 

বরগুনায় তালতলী উপজেলায় ইউরিয়া সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দিনের পর দিন ডিলারদের কাছে ঘুরেও সার না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। এ সুযোগে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। দ্রুত পর্যাপ্ত সার সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

 

জানা গেছে, চলতি বছর তালতলী উপজেলায় আমন ধানের জমি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ১৬০ হেক্টর। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে লক্ষ্যমাত্রার জমিতে আমন ধান রোপণ শেষ হয়। রোপণের কয়েক দিন পর থেকেই জমিতে ইউরিয়া সারের প্রয়োজন দেখা দেয়। তবে সারের চাহিদা দ্বিগুণ হলেও অক্টোবর মাসে উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৩৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া।

 

বিসিআইসি সার ডিলার খলিলুর রহমান ও নান্নু খাঁনের দাবি, অক্টোবরের বরাদ্দের সার সরকার সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই ছাড় দেয়। সার পাওয়ার পর তা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এরপর চাহিদা থাকলেও নতুন করে সার সরবরাহ না থাকায় কৃষকদের দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

 

গত ১০ দিন ধরে তালতলীতে ইউরিয়া সারের তীব্র সংকট চলছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। সোমবার উপজেলার ছোটবগী, পঁচাকোড়ালিয়া, বড়বগী ও শারিকখালী ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, সার পাওয়ার জন্য ডিলারদের কাছে কৃষকদের ভিড়। অনেকেই দিনের পর দিন ঘুরেও সার পাচ্ছেন না।

 

পশ্চিম গাবতলী গ্রামের কৃষক মো. ইসহাক হাওলাদার বলেন, ১ হাজার ৬৫০ টাকা বস্তা দরে ১৫ বস্তা সার কিনেছেন। কিন্তু তার জমির জন্য আরও ১৫ বস্তা সার প্রয়োজন।

 

গাবতলী গ্রামের মাছুম মোল্লা বলেন, সাত দিন ধরে সার পাচ্ছেন না। সময়মতো জমিতে সার দিতে না পারলে আমনের ফলন ভালো হবে না। তিনি বলেন, খুচরা ডিলারের কাছ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা বস্তা দরে তিন বস্তা সার কিনেছেন। এখন আরও সার প্রয়োজন হলেও পাচ্ছেন না।

 

কলারং গ্রামের কৃষক গোলাম ফারুক বলেন, ১০ দিন ধরে সার পাচ্ছেন না।

 

কচুপাত্রা গ্রামের নাশির মুন্সি বলেন, তার ১৫ বস্তা সার প্রয়োজন হলেও পেয়েছেন মাত্র পাঁচ বস্তা। হন্যে হয়ে ঘুরেও আর সার পাচ্ছেন না। সময়মতো জমিতে সার দিতে না পারলে আমনের ফলন ভালো হবে না।

 

পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার মো. নান্নু খাঁন বলেন, অক্টোবর মাসে ১৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেয়েছেন। সার আনার সঙ্গে সঙ্গে তা বিতরণ করে দিয়েছেন। গত সাত দিন ধরে তার কাছে কোনো সার নেই। কৃষকরা সার নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন।

 

বড়বগী ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার মো. খলিলুর রহমান বলেন, চাহিদার তুলনায় অক্টোবর মাসে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ কম। বড়বগী ইউনিয়নে চাহিদা ছিল ৭০ মেট্রিক টন, কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ২০ মেট্রিক টন। ফলে সার সংকট তৈরি হয়েছে।

 

তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু জাফর বলেন, যেসব এলাকায় সারের সংকট তৈরি হয়েছে, সেসব এলাকার জন্য অতিরিক্ত সার বরাদ্দ এনে সংকট সমাধান করা হবে।

 

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি অতীশ সরকার বলেন, বেশি দামে সার বিক্রির সুযোগ নেই। সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত সার সংকট সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩৫:৪৩ ● ২৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ