১৭ মাসের সংসার থামল হাসপাতালে, শেষ বিদায় ডা. আঁচলের

হোম » সর্বশেষ » ১৭ মাসের সংসার থামল হাসপাতালে, শেষ বিদায় ডা. আঁচলের
মঙ্গলবার ● ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

১৭ মাসের সংসার থামল হাসপাতালে, শেষ বিদায় ডা. আঁচলের

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বেতাগী (বরগুনা)

 

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা করতেন তিনি। চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন উচ্চতর প্রশিক্ষণের পথে। শিগগিরই ডেঙ্গু ইউনিটেও দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ডেঙ্গু কেড়ে নিল চিকিৎসক ডা. আঁচল রায়কে।

 

৪২তম বিসিএসের এই চিকিৎসক রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৩২ বছর। তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তাকে রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছিল।

 

ডা. আঁচল রায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম চার দিন বাসায় চিকিৎসা নেন। পঞ্চম দিনে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এবং রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা দ্রুত কমে গেলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রথমে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে ভর্তি করা হলেও পরে অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

তার স্বামী ডা. বিপ্লব চন্দ্র দাস জানান, আঁচলের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়েছিল। বিপ্লব চন্দ্র দাস দেশের উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগী আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।

 

চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবনে ডা. আঁচল রায় মাঝে মাঝে ডেঙ্গু রোগীদেরও চিকিৎসা দিয়েছেন। এবার তারই ডেঙ্গু ইউনিটে দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের আগেই ডেঙ্গুর কাছে হার মানতে হলো তাকে।

 

শুধু কর্মজীবনেই নয়, উচ্চতর চিকিৎসাশিক্ষার ক্ষেত্রেও এগিয়ে যাচ্ছিলেন আঁচল। সম্প্রতি ইন্টারনাল মেডিসিনে এফসিপিএসের মিড-টার্ম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। এর আগে যুক্তরাজ্যের এমআরসিপি পরীক্ষার পার্ট-ওয়ানও পাস করেন।

 

আঁচল রায় ও তার স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাস দুজনই তৎকালীন আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে, বর্তমানে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ, পড়াশোনা করেছেন। শিক্ষাজীবনে তাদের পরিচয় হলেও স্নাতক শেষ করার পর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় তিন বছর সম্পর্কের পর তারা বিয়ে করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনের বয়স হয়েছিল মাত্র ১৭ মাস। তাদের কোনো সন্তান ছিল না।

 

আঁচল রায়ের পৈতৃক বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তবে তার বেড়ে ওঠা ঢাকায়। ৪২তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।

 

ডা. আঁচল রায়ের মৃত্যুতে ৪২তম বিসিএসের সহকর্মীসহ চিকিৎসক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সহকর্মীরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন এক শোকবার্তায় বলেন, ‘ডা. আঁচল রায়ের অকাল মৃত্যুতে স্বাস্থ্য পরিবার একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসককে হারাল। তার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত।’ তিনি প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বাংলাদেশ সময়: ২২:১৩:৩৩ ● ১৮ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ