
সাগরকন্যা ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়ের একটি প্রতিবেদনে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা, যুদ্ধবিমান, ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস এবং বিপুল অর্থ ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত চার মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের শত শত ভবন ও সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এ সময় অন্তত ৩০টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুধু অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারে এই চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে সংঘাতের মোট ব্যয় ৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরান ও তাদের মিত্রদের ধারাবাহিক হামলায় কুয়েত, সৌদি আরব, ইরাক ও জর্ডানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব হামলায় বিপুলসংখ্যক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সংঘাতে অন্তত ১১ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং চার শতাধিক আহত হয়েছেন। ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান, এফ-৩৫এ স্টিলথ যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার এবং বিভিন্ন ধরনের হেলিকপ্টার রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন কূটনৈতিক মিশন ও দূতাবাসও হামলার শিকার হয়েছে। এসব স্থাপনা মেরামত ও নিরাপত্তা জোরদারে প্রায় ১৮৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ থাকার পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। প্রতিবেদনে মার্কিন অস্ত্রের মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থায়ও চাপ এবং ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অস্ত্র সক্ষমতার কথা তুলে ধরলেও, প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে অস্ত্রের মজুত এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা