
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নেছারাবাদে নির্মাণাধীন ভবনের সেফটি ট্যাংকের ভেতরে কাজ করতে নেমে মো. মনির শেখ (৪২) নামে এক রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা মো. কুদ্দুস (৭০) নামে অপর এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়ী গ্রামের তারা মিয়ার নির্মাণাধীন ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মনির শেখ পাশের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ফলনী গ্রামের মো. আব্দুল জলিল শেখের ছেলে। পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী রাজমিস্ত্রী মো. শাহ আলম জানান, মনির শেখ ও কুদ্দুস তারা মিয়ার বাড়ির সেফটি ট্যাংকের কাজ করছিলেন। সকালে ট্যাংকের ঢাকনা খুলে ভেতরের ঢালাইয়ের সেন্টারিং খুলতে প্রথমে মনির ট্যাংকের ভেতরে নামেন। পরে কুদ্দুসও সেখানে নামেন। এ সময় শাহ আলমসহ অন্য শ্রমিকরা পাশের একটি ভবনে কাজ করছিলেন।
শাহ আলম বলেন, হঠাৎ চিৎকার শুনে তাঁরা ছুটে গিয়ে সেফটি ট্যাংকের ভেতরে দুজনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে কয়েকজন মিলে তাঁদের উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মনির শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। কুদ্দুসকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহতের বাবা মো. আব্দুল জলিল শেখ বলেন, সকালে তাঁর ছেলে রাজাবাড়ীর তারা মিয়ার ভবনের সেফটি ট্যাংকের ভেতরে কাজ করতে নেমেছিলেন। সেখানে নেমে শ্বাস বন্ধ হয়ে তাঁর ছেলে ও সহযোগী অচেতন হয়ে পড়েন বলে তিনি জানতে পারেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়।
নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, সেফটি ট্যাংকের ভেতরে অক্সিজেন না থাকায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর সহযোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। মনির শেখ হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান।
নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, সেফটি ট্যাংকের ভেতরে নেমে মনির শেখ অচেতন হয়ে মারা গেছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তাঁর সঙ্গে থাকা অপর ব্যক্তিও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মনির শেখের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।