
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর বাউফলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধীয় জমিতে চাষাবাদ ও দখলের অভিযোগ উঠেছে এক পক্ষের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নের ১২২ নম্বর খাজুরবাড়িয়া মৌজার এসএ খতিয়ানের প্রায় ২ দশমিক ০৭ একর জমি নিয়ে একই বাড়ির গোকুল চন্দ্র মন্ডল গং ও সুবল চন্দ্র মিস্ত্রি গংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিরোধীয় জমির মধ্যে ১২১৯ নম্বর খতিয়ানের ৬৬০৩, ৬৬০৫ ও ৬৬০৯ এবং ১২২০ নম্বর খতিয়ানের ৬৬০২, ৬৬০৬ ও ৬৬২৭ নম্বর দাগ রয়েছে।
এ বিরোধের জেরে গোকুল চন্দ্র মন্ডল গং বাউফল সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা নম্বর ১৪০/২০২৩ দায়ের করেন। মামলার নথি অনুযায়ী, বিরোধীয় সম্পত্তি নিয়ে কোনো পক্ষ যাতে হালচাষ, দখল বা হস্তান্তরের মাধ্যমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে আদালত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিবাদী সুবল চন্দ্র মিস্ত্রি বিরোধীয় জমিতে চাষাবাদসহ দখল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে আদালতের আদেশের কপি নিয়ে বাউফল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং উভয় পক্ষকে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলতে সতর্ক করে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগের পরও বিবাদী পক্ষ জমিতে চাষাবাদ অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ বাদীপক্ষের।
বাদী গোকুল চন্দ্র মন্ডল গংয়ের আরও অভিযোগ, জমির মালিকানা দাবি করতে বিবাদী পক্ষ কথিত ভুয়া ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন কাগজপত্র ব্যবহার করছে। এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অবগত রয়েছেন বলে দাবি তাদের।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুবল চন্দ্র মিস্ত্রি বলেন, তাঁর জমিসংক্রান্ত কাগজপত্র সঠিক রয়েছে এবং আদালতের রায় তিনি মেনে নেবেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকা অবস্থায় জমিতে চাষাবাদের বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, পুলিশ পাঠিয়ে উভয় পক্ষকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে বলা হয়েছে। যেকোনো ধরনের বিরোধের আশঙ্কায় পুলিশ নজর রাখছে।
আদালতের নোটিশে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো পক্ষ অন্যায় বা বেআইনি কার্যক্রম করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।