নেছারাবাদে আসামি গ্রেফতারের কথা বলে সাংবাদিক পরিচয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

হোম » গণমাধ্যম » নেছারাবাদে আসামি গ্রেফতারের কথা বলে সাংবাদিক পরিচয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ
সোমবার ● ৩১ আগস্ট ২০২৬


 

নেছারাবাদে আসামি গ্রেফতারের কথা বলে সাংবাদিক পরিচয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদে পুলিশের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে একটি মামলার আসামিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে মামলার বাদীর কাছ থেকে ২৪ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্যতার কথা বলে কথিত সংবাদকর্মী মো. আবু রায়হান সোহেল ওই টাকা নেন। এ ঘটনায় টাকা নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী মো. জাহাঙ্গীর মোল্লার অভিযোগ, গত ২৩ মে তাঁর স্ত্রী ঘরে থাকা প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে চলে যান। এ ঘটনায় গত ১ আগস্ট তিনি নেছারাবাদ থানায় মামলা করেন।

 

জাহাঙ্গীর মোল্লার দাবি, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করিয়ে দেওয়ার কথা বলে পূর্বপরিচিত আবু রায়হান সোহেল তাঁর কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। নিজেকে দেশের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সোহেল তাঁকে আশ্বস্ত করেন, পুলিশের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করিয়ে দিতে পারবেন। একই সঙ্গে পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন।

 

জাহাঙ্গীর মোল্লার ভাষ্য, এসব আশ্বাসে বিশ্বাস করে উপজেলার ইন্দেরহাট এলাকার একটি বিকাশের দোকান থেকে তিনি আবু রায়হান সোহেলকে ২৪ হাজার টাকা দেন। তবে টাকা দেওয়ার প্রায় এক মাস পার হলেও কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সোহেল নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন বলেও অভিযোগ তাঁর।

 

ভুক্তভোগীর ভাগ্নে মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘আসামিদের ধরতে থানায় টাকা দেওয়ার কথা বলে আবু রায়হান সোহেল আমাদের কাছ থেকে ২৪ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি। কারণ জানতে চাইলে তিনি বিভিন্ন অজুহাত দিচ্ছেন। আমাদের ধারণা, পুলিশের নাম ভাঙিয়ে তিনি হয়তো আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।’

 

অভিযোগের বিষয়ে মো. আবু রায়হান সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা এনে আমি পুলিশকে দিয়েছি। আমি যে কথা দিয়েছি, সেই অনুযায়ী কাজ করছি। এখন পুলিশ আসামি না ধরলে আমি কী করব?’

 

এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘আবু রায়হান নামে এক ব্যক্তি একটি মামলার আসামিকে গ্রেফতার করিয়ে দেওয়ার কথা বলে বাদীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, এমন একটি বিষয় শুনেছি। পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কেউ কোনো ধরনের চাঁদাবাজি করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন স্বরূপকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, মূলধারার সাংবাদিকতার সঙ্গে চাঁদাবাজি ও অপসাংবাদিকতার কোনো সম্পর্ক নেই। সাংবাদিকতার নামে কেউ চাঁদাবাজি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৪:৫৫:১৬ ● ৪১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ