কলাপাড়ায় শিকলে বাঁধা মেয়ে-বোন, লড়াই করছেন ষাটোর্ধ্ব আছিয়া

হোম » পটুয়াখালী » কলাপাড়ায় শিকলে বাঁধা মেয়ে-বোন, লড়াই করছেন ষাটোর্ধ্ব আছিয়া
শনিবার ● ২২ আগস্ট ২০২৬


 

শিকলে বাঁধা মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ে ও বোনকে নিয়ে আছিয়ার সংগ্রাম

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

 

মেয়ে ও বোন দুজনই মানসিক ভারসাম্যহীন। মায়ের মমতা আর বোনের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও লড়াই করে যাচ্ছেন ষাটোর্ধ্ব আছিয়া বেগম। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামের এই নারী নিজের চিকিৎসার পাশাপাশি মেয়ে ও বোনের চিকিৎসা এবং জরাজীর্ণ ঘরটি সংস্কারে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।

 

আছিয়ার মেয়ে আসমা বেগম ডলি (৩৬) প্রায় ১০ বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। অসুস্থতার শুরুর দিকে স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান। পরে অসুস্থতা বেড়ে গেলে মানুষের ক্ষতি করার আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে মেয়েকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয় বলে জানান আছিয়া।

 

অন্যদিকে, আছিয়ার বোন ফাতেমা বেগম (৫৫) প্রায় ৩০ বছর ধরে একই সমস্যায় ভুগছেন। মল-মূত্র ত্যাগের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় তাকে জরাজীর্ণ একটি ঘরে আলাদা করে রাখতে হয়।

 

দুজন অসুস্থ স্বজনের দেখাশোনার পাশাপাশি সংসারের সব দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে আছিয়া নিজেও অসহায় হয়ে পড়েছেন। প্রায় ৪০ বছর আগে স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর আর নতুন করে সংসার না করে মেয়ে ও বোনকে আগলে রেখেছেন তিনি। একসময় ভিক্ষা করে সংসার চললেও বয়স ও নানা শারীরিক অসুস্থতার কারণে এখন সেটিও করতে পারছেন না।

 

প্রায় ছয় বছর আগে সরকার থেকে আছিয়া একটি ঘর পান। বর্তমানে সেই ঘরটিও নড়বড়ে ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। মেয়ে ও বোনের চিকিৎসার পাশাপাশি ঘরটি সংস্কারে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা চান তিনি।

 

স্থানীয় বাসিন্দা হাসান পারভেজ বলেন, ‘আমাদের এলাকার সবচেয়ে অসহায় পরিবার এটি। ছয় বছর আগে সরকার পরিবারটিকে একটি ঘর দিয়েছিল। কিন্তু ঘরটিও এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এটি সংস্কার করা প্রয়োজন।’

 

একই গ্রামের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘এ পরিবারে কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নেই। সরকার থেকে তারা যে ভাতা পান, তা দিয়ে খেয়ে না খেয়ে সংসার চলছে। এখন তিনজনেরই চিকিৎসা প্রয়োজন।’

 

আছিয়া বেগম বলেন, ‘আমার কোমরে অনেক ব্যথা। কাজ করতে পারি না। তারপরও মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত আমার মেয়ে ও বোনকে দেখাশোনা করতে হয়। আমরা তিনজনই সরকার থেকে কিছু টাকা পাই। কিন্তু তা দিয়ে ওষুধ তো দূরের কথা, আমাদের তিনজনের জীবন চালানোই কঠিন।’

 

সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়ে আছিয়া বলেন, ‘আমাকে সাহায্য করতে চাইলে দয়া করে ০১৬১৭৩৯২৬০৮ নম্বরে যোগাযোগ করবেন।’

 

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘অসহায় এ পরিবারটির খোঁজখবর নিয়ে তাদের সরকারি সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।’

বাংলাদেশ সময়: ১৪:৩২:২৫ ● ২১ বার পঠিত




আর্কাইভ