সকালে ঘুম ঘুম ভাব কাটানোর ৬ সহজ উপায়

হোম » লাইফস্টাইল » সকালে ঘুম ঘুম ভাব কাটানোর ৬ সহজ উপায়
শনিবার ● ২২ আগস্ট ২০২৬


 

যে উপায়ে ঘুম ঘুম ভাব কাটাতে পারেন

সাগরকন্যা লাইফস্টাইল ডেস্ক

 

ঘুম থেকে ওঠার পর সতেজ অনুভব করার কথা থাকলেও অনেকেই সকালে ঘুম ঘুম ভাব, ক্লান্তি ও আলসেমিতে ভোগেন। কর্মক্ষেত্র, পড়াশোনা কিংবা দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরুর সময় এমনটা হলে মনোযোগ ও কাজের গতি ব্যাহত হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি সকালে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে ঘুমভাব কাটিয়ে শরীর ও মনকে দ্রুত সক্রিয় করে তোলা সম্ভব।

 

১. ঘুম থেকে উঠে আলো-বাতাসের সংস্পর্শে আসুন

 

ঘুম থেকে ওঠার পরপরই ঘরের পর্দা খুলে দিন। সম্ভব হলে কিছু সময় প্রাকৃতিক আলো ও খোলা বাতাসের সংস্পর্শে থাকুন। সকালের আলো শরীরের ঘুম ও জাগরণের স্বাভাবিক ছন্দ বা সার্কাডিয়ান রিদম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে ঘুম থেকে জেগে ওঠার প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং দিনের শুরুতে সতেজ অনুভব করতে সহায়তা করে।

 

২. এক গ্লাস পানি পান করুন

 

রাতে দীর্ঘ সময় পানি পান না করার কারণে সকালে শরীরে কিছুটা পানিশূন্যতা থাকতে পারে। এর ফলে ক্লান্তি, দুর্বলতা বা ঝিমুনি অনুভূত হতে পারে। তাই ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করতে পারেন। ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি-যেটি আরামদায়ক, সেটিই পান করা ভালো।

 

৩. কয়েক মিনিট হাঁটুন বা স্ট্রেচিং করুন

 

ঘুম থেকে উঠে দীর্ঘসময় একই জায়গায় বসে বা শুয়ে না থেকে কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন। চাইলে হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশের হালকা স্ট্রেচিংও করতে পারেন। এতে শরীর সক্রিয় হয় এবং ঘুমভাব কাটিয়ে কাজে মনোযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করে।

 

৪. মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিতে পারেন

 

সকালে ঘুমভাব বেশি থাকলে মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দেওয়া যেতে পারে। ঠান্ডা পানির স্পর্শ সাময়িকভাবে সতেজ অনুভূতি দিতে পারে এবং ঘুমভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এটি ঘুমের ঘাটতি পূরণের বিকল্প নয়। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমই দীর্ঘস্থায়ীভাবে সকালের ক্লান্তি কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

 

৫. পুষ্টিকর নাশতা করুন

 

সকালের নাশতায় অতিরিক্ত মিষ্টি বা পরিশোধিত শর্করাযুক্ত খাবারের ওপর নির্ভর না করে পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া ভালো। ডিম, দুধ, বাদাম, ফল, শাকসবজি ও অন্যান্য প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার নাশতায় রাখা যেতে পারে। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এবং দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে।

 

৬. নিয়মিত ঘুমের রুটিন মেনে চলুন

 

সকালের ঘুমভাব কাটানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম। প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের প্রতি রাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। নিয়মিত ঘুমের রুটিন শরীরের স্বাভাবিক ঘুম-জাগরণ চক্র ঠিক রাখতেও সহায়তা করে।

 

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

 

পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর পরও যদি নিয়মিত অতিরিক্ত ঘুমভাব, ক্লান্তি বা দুর্বলতা থাকে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। দীর্ঘস্থায়ী এমন সমস্যার পেছনে ঘুমের ব্যাঘাত, কিছু শারীরিক সমস্যা বা অন্যান্য কারণ থাকতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।

 

সকালের ঘুমভাব কাটাতে পানি পান, প্রাকৃতিক আলো, হালকা শারীরিক কর্মকাণ্ড ও পুষ্টিকর নাশতা কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তবে দিনের শুরুটা ভালো করার সবচেয়ে কার্যকর ভিত্তি হলো পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ঘুমের সময় এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।

বাংলাদেশ সময়: ৭:৩৯:৪৮ ● ২৫ বার পঠিত




আর্কাইভ