বরগুনায় স্কুলে দেড় বছর অনুপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষা অফিসে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত

হোম » শিক্ষা » বরগুনায় স্কুলে দেড় বছর অনুপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষা অফিসে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত
শুক্রবার ● ২১ আগস্ট ২০২৬


 

বরগুনায় স্কুলে দেড় বছর অনুপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষা অফিসে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

বরগুনা সদর উপজেলার আন্ধার মানিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জুয়েল মিয়া প্রায় দেড় বছর ধরে বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান করছেন না। শিক্ষক সংকটের এই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দাপ্তরিক কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকলেও হাজিরা খাতায় তাঁর উপস্থিতি ও স্বাক্ষর থাকার অভিযোগ উঠেছে।

 

বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক প্রায় দেড় বছর আগে অবসরে যাওয়ার পর পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে চারজন সহকারী শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে। তাঁদের মধ্যে একমাত্র পুরুষ শিক্ষক জুয়েল মিয়া দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় কার্যত তিনজন শিক্ষককে দিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে।

 

বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, শিক্ষক সংকটের মধ্যে একজন শিক্ষককে দীর্ঘদিন উপজেলা শিক্ষা অফিসের দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত রাখায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কোনো শিক্ষক ছুটিতে গেলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে।

 

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, ‘জুয়েল স্যার অনেক দিন ধরে স্কুলে আসেন না। এ কারণে আমাদের ঠিকমতো ক্লাসও হয় না। আমাদের প্রধান শিক্ষকও নেই। আমরা চাই, জুয়েল স্যার নিয়মিত স্কুলে এসে আমাদের ক্লাসে পড়ান।’

 

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নবগঠিত সহসভাপতি মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘কাগজে-কলমে চারজন শিক্ষক থাকলেও বাস্তবে তিনজনকে পাওয়া যায়। প্রধান শিক্ষক প্রায় দেড় বছর আগে অবসরে গেছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককেও বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। অন্য কোনো শিক্ষক ছুটিতে গেলে বিদ্যালয় প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষক সংকটের মধ্যে একজন শিক্ষককে উপজেলা শিক্ষা অফিসে রেখে বিদ্যালয়ের পাঠদান চালানো কঠিন। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে জুয়েল মিয়াকে দ্রুত বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।’

 

জুয়েল মিয়া দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও হাজিরা খাতায় তাঁর উপস্থিতি কীভাবে দেখানো হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও নিয়মিত হাজিরা দেখানো এবং তাঁর হয়ে কেউ স্বাক্ষর করছেন কি না, এসব বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক মো. জুয়েল মিয়া বলেন, ‘অফিসের প্রয়োজনে আমাকে এখানে (উপজেলা শিক্ষা অফিসে) আনা হয়েছে। তাঁরা বললে আবার স্কুলে ফিরে যাব। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা আমাকে যেখানে রাখবেন, সেখানেই কাজ করতে হবে।’

 

বরগুনা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা জেরিনা আক্তার গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘অফিসে কম্পিউটারভিত্তিক কাজ করার মতো লোকবল নেই। প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজ করানোর জন্য জুয়েল মিয়াকে দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো ফিডব্যাক পাওয়া যায়নি। কোনো উপায় না থাকায় জুয়েলের মাধ্যমে অফিসের প্রয়োজনীয় কাজগুলো করানো হচ্ছে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৫:১১:৪৮ ● ৩৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ