
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
বরগুনার আমতলীতে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক না দেওয়ায় দুই সন্তানের জননী সানজিদা আক্তারকে (২৫) শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী উজ্জ্বল তালুকদারের বিরুদ্ধে। তবে স্বামী উজ্জ্বল দাবি করেছেন, তার স্ত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আমতলী উপজেলার গেরাবুনিয়া গ্রামে। বৃহস্পতিবার পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহতের বাবা পটুয়াখালী সদর উপজেলার পশুরবুনিয়া গ্রামের আবু বকর তালুকদার অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে তার মেয়ে সানজিদার সঙ্গে আমতলীর গেরাবুনিয়া গ্রামের কাবিল তালুকদারের ছেলে উজ্জ্বল তালুকদারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে মেয়েকে নির্যাতন করা হতো। সম্প্রতি ব্যবসার জন্য ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন উজ্জ্বল। টাকা দিতে অস্বীকার করায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল।
আবু বকর তালুকদারের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে যৌতুকের টাকা নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে সানজিদাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা সাজানো হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার মেয়ের মৃত্যুর খবর বুধবার বিকেলে জানানো হয়। এ ঘটনায় হত্যা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ মামলা নেয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, উজ্জ্বল তরমুজ ব্যবসায় লোকসানের পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। কয়েকদিন ধরে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করছিলেন। তারা বলেন, গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তারা মরদেহ দেখেননি; সকালে গিয়ে মরদেহ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেছেন।
নিহতের মা মনি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ে অনেকবার বলেছে তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যেতে। বলেছে, ওরা তাকে মেরে ফেলবে। কিন্তু আমরা শুনিনি। আজ আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে, আমি এর বিচার চাই।
অভিযোগ অস্বীকার করে নিহতের স্বামী উজ্জ্বল তালুকদার বলেন, আমার স্ত্রী খুব জেদি ছিল। কারও প্ররোচনায় সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএইচকে/এমআর