
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কয়রা (খুলনা)
খুলনার কয়রায় চার বছরেও শেষ হয়নি দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজ। কোথাও সড়ক খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে, কোথাও কাজ শুরু করে মাঝপথে বন্ধ করে দিয়েছেন ঠিকাদার। এতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।
কয়রা সদর ইউনিয়নের মদিনাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মোড় থেকে ৪ নম্বর কয়রা বাজার পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয় ২০২১ সালের নভেম্বরে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সংস্কারে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। কাজ পায় মেসার্স রাকা এন্টারপ্রাইজ। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্মাণসামগ্রীর ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়।
পরে পুনঃদরপত্রে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি পায় মেসার্স নাজিফা এন্টারপ্রাইজ। চুক্তি অনুযায়ী গত ১২ এপ্রিল কাজ শুরু করে ২০২৭ সালের ১১ জানুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না করায় গত ৯ জুলাই পাঁচ দিনের মধ্যে কাজ শুরুর জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদপত্র দেয় এলজিইডি। এরপরও কাজ শুরু হয়নি।
কয়রা উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন বলেন, তাগিদপত্র দেওয়ার পরও কাজ শুরু না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দেওয়া হবে।
অন্যদিকে আমাদী ইউনিয়নের হুদুবুনিয়া-চান্নিরচক সড়কের দুই কিলোমিটার সংস্কারেও একই অবস্থা। পল্লি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালে ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও কাজ শুরুর পর সড়ক খুঁড়ে রেখে তা বন্ধ করে দেয় রাকা-সিয়াম (জেভি) এন্টারপ্রাইজ। বর্তমানে পুনঃদরপত্রের জন্য যৌথ পরিমাপের কাজ চলছে।
স্থানীয়রা জানান, সড়ক দুটির বেহাল অবস্থায় শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। বর্ষায় কাদা ও জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। সড়কের গর্তে প্রায়ই যানবাহন দুর্ঘটনার কবলেও পড়ছে।
এলজিইডির কয়রা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. শাফিন সোয়েব বলেন, দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।