আমতলীতে ধানের চারা উপড়ে ফেলার প্রতিবাদ করায় দুই দিন অবরুদ্ধ রাখার দাবি

হোম » বরগুনা » আমতলীতে ধানের চারা উপড়ে ফেলার প্রতিবাদ করায় দুই দিন অবরুদ্ধ রাখার দাবি
সোমবার ● ৬ জুলাই ২০২৬


আমতলীতে ধানের চারা উপড়ে ফেলার প্রতিবাদ করায় দুই দিন অবরুদ্ধ রাখার দাবি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)

বরগুনার আমতলীতে আদালতের নির্দেশে রোপণ করা ধানের চারা রাতের আঁধারে উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় জমির মালিক বৃদ্ধ অহেদ মুসুল্লী ও তাঁর স্বজনদের দুই দিন বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখারও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রবিবার রাতে অহেদ মুসুল্লীর ভাই ছালাম মুসুল্লী আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার পশ্চিম কলাগাছিয়া গ্রামের অহেদ মুসুল্লী ও তাঁর চার ভাই পৈতৃক সূত্রে ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ জমির মালিক। তাঁদের দাবি, প্রায় ১০০ বছর ধরে তারা জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। ২০২১ সালে ওই জমি জোরপূর্বক দখল করে নেন বলে অভিযোগ করেছেন গুলিশাখালী ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ঘোষিত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আলতাফ আকন, সেলিম আকন, খবির আকন ও দেলোয়ার আকনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অহেদ মুসুল্লী বরগুনার আদালতে মামলা করেন।

অহেদ মুসুল্লীর দাবি, মামলায় তাঁদের পক্ষে রায় হলেও প্রতিপক্ষ আদালতের আদেশ মানেননি। পরে গত বৃহস্পতিবার আদালত জমিতে তাঁদের চাষাবাদের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী শুক্রবার জমিতে চাষাবাদ শেষে ধানের চারা রোপণ করা হয়। তবে একই রাতেই আলতাফ আকন, সেলিম আকন ও তাঁদের লোকজন চারা উপড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শনিবার সকালে এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে আলতাফ আকন ও তাঁর সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে ও তাঁর স্বজনদের দুই দিন বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং বাইরে বের হলে হত্যার হুমকি দেন। রবিবার রাতে তাঁর ভাই ছালাম মুসুল্লী পালিয়ে গিয়ে থানায় অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অহেদ মুসুল্লী।

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আদালতের নির্দেশে রোপণ করা জমির ধানের চারা উপড়ে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, গত পাঁচ বছর ধরে আলতাফ আকন, সেলিম আকন ও তাঁদের লোকজন জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। আদালতের নির্দেশে শুক্রবার জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হলেও রাতের আঁধারে সেগুলো উপড়ে ফেলা হয়েছে।

তবে আলতাফ আকন ধানের চারা উপড়ে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই জমি আমাদের। আমাদের জমি আমরা চাষাবাদ করেছি। আদালতের আদেশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

আমতলী থানার ওসি মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এমএইচকে/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫৬:০৩ ● ৩১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ